নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সাপে কাটার চিকিৎসা উন্নত করতে গবেষণা চালাবে কল্যাণী এইমস। তারই প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হল ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। এখন এই হাসপাতালে যেসব সাপে কাটা রোগী আসছেন, তাঁদের ক্ষতস্থান থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই নমুনা পাঠানো হবে কল্যাণী এইমসে। সেখানেই চলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। বিষধর সাপ নাকি অন্য কোনও বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ছে, গবেষণার মাধ্যমে সেই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যাবে বলে দাবি। এখন দু’টি ক্ষেত্রেই অ্যান্টি ভেনম সিরাম দেওয়া হয়। নয়া গবেষণার পর সহজেই সাপের দংশন চিহ্নিত করা যাবে বলে দাবি চিকিৎসকদের। ক্যানিং হাসপাতালের সহযোগিতায় কল্যাণী এইমস এই কাজ করছে।
জানা গিয়েছে, গবেষণার মাধ্যমে কালাচ, চন্দ্রবড়া কিংবা কেউটে সাপে কাটার চিকিৎসায় পৃথক অ্যান্টি ভেনম সিরাম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাতদিন ধরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি হাসপাতালের ফ্রিজারে মাইনাস ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। কল্যাণী নিয়ে যাওয়ার পর ওই নমুনা রাখা হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। এভাবে এক বছর ধরে চলবে নমুনা সংগ্রহের কাজ। যখন কোনও সাপে কাটা রোগী আসেন, তখন তাঁর উপসর্গ দেখে ওষুধ বা প্রতিষেধক দেন ডাক্তাররা। অনেক সময় পোকামাকড়ের কামড়ের জন্যও অ্যান্টি ভেনম দিয়ে থাকেন তাঁরা। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে সাপের কামড় চিহ্নিত করে যাতে সেই মতো চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই গবেষণা বলে জানানো হয়েছে। এর জন্য একটি বিশেষ কিট তৈরি করা হবে। তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইআইটি খড়্গপুরকে। সংগৃহীত নমুনা সেই কিটে ফেলে পরীক্ষা করে দেখা হবে, সাপ নাকি অন্য বিষাক্ত কিছু কামড়েছে। ক্যানিং হাসপাতালের সুপার পার্থসারথী কয়াল বলেন, ‘এই গবেষণা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের অনেক উপকারে আসবে বলেই আমাদের আশা। প্রতিষেধক যাতে সাপের কামড়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়,তা নিশ্চিত করা যাবে। কমবে অপচয়। গবেষণাটি হবে কল্যাণী এইমসে। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি মাত্র।’