নয়াদিল্লি: লাহোরের বিখ্যাত আনারকলি বাজারে তখন গিজগিজ করছে লোকজন। দোকানে দোকানে চলছে কেনাবেচা। একেবারেই আর পাঁচটা ব্যস্ত দিনের মতোই ছবি। কিন্তু হঠাত্ই ভিড়ের মধ্যে আলোড়ন। বাজারের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে শাড়ি পরিহিতা এক মহিলা। হাতে ধরা দামি আইফোন। আর ওই মহিলাকে ঘিরে অন্তত ছ’জন সশস্ত্র রক্ষী। প্রত্যেকের হাতে একে-৪৭। চার রক্ষীর পরনে কালো জ্যাকেট। তার খোলা চেনের মধ্যে থেকে উঁকি মারছে পুলিস লেখা জলপাই রংঙের উর্দি। বাকি দু’জন সবুজ-কালো জ্যাকেটে, তার পিছনে লেখা ‘নো ফিয়ার’। ভিড় ঠেলে মহিলাকে নিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীর ওই দল। ওই মহিলা আর কেউ নয়, পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রা!
শেষবার যখন জ্যোতি পাকিস্তানে গিয়েছিল, তখনই তার জন্য এমন ‘ভিআইপি’ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ঘটনাচক্রে, সেদিন আনারকলি বাজারে গিয়েছিলেন আরও এক ট্র্যাভেল ভ্লগার, স্কটল্যান্ডের ক্যালাম মিল। জ্যোতির নিরাপত্তা দেখে তিনিও হতভম্ব হয়ে যান। নিজেই এগিয়ে গিয়ে তাই লাস্যময়ী ভ্লগারের সঙ্গে আলাপ করেন ক্যালাম। তাঁর ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, কীভাবে জ্যোতিকে ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। ইউটিউবে আপলোড করা সেই ভিডিও সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, একজন সামান্য ভারতীয় ভ্লগারের জন্য কেন সশস্ত্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পাক সরকার? আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তি করার জন্যই কী জ্যোতিকে ‘ভিআইপি’ মর্যাদা দেওয়া হয়? ভারত থেকে বহিষ্কৃত পাক হাইকমিশনের কর্মী দানিশই কি সব ব্যবস্থা করে দিয়েছিল? শুধু তা-ই নয়, প্রশ্ন উঠছে একে-৪৭ রাইফেলধারী নিরাপত্তাকর্মীদের পরিচয় নিয়েও। তারা কি সত্যিই সেনা বা পুলিসের সদস্য? নাকি অন্য কেউ?
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ক্যালাম এগিয়ে গিয়ে জ্যোতিকে নিজের পরিচয় দেন। জ্যোতি তখন জিজ্ঞাসা করে, ‘আপনি কি প্রথমবার পাকিস্তানে এসেছেন?’ ক্যালাম পাঁচবার পাকিস্তানে এসেছেন শুনে তাঁকে ভারতে ঘুরতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় ভারতীয় ভ্লগার। পাকিস্তানের আতিথেয়তা যে চমত্কার, তাও জানাতে ভোলেনি বর্তমানে ধৃত জ্যোতি। সে এগিয়ে যাওয়ার পরই ক্যালামও প্রশ্ন তোলেন, ‘একজনের জন্য এত নিরাপত্তা, বন্দুকের প্রয়োজন কেন?’ তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, জ্যোতিকে পাকিস্তানে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হতো, তা এই ভিডিওতেই স্পষ্ট। তাকে হাই-প্রোফাইল পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানানো হতো। সেখানে পাক সেনা ও আইএসআইয়ের আধিকারিকদের সঙ্গে পরিচয় হয় জ্যোতির। ভারতে ফিরে আসার পরেও সে যোগাযোগ রেখে চলত সকলের সঙ্গে। এই সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়ার জন্য জ্যোতির সব ডিজিটাল ডিভাইস পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাকিস্তান ছাড়াও অন্য যে সব দেশে জ্যোতি ঘুরতে গিয়েছে, সেখানেও বিলাসবহুলভাবে দিন কাটিয়েছে সে। সেই টাকার উত্সও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবারই জ্যোতির দ্বিতীয় দফার পুলিস হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাকে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে হরিয়ানার হিসারের আদালত।