Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মাত্র ৪০ কিমি, লাহোরের দুয়ারে প্রত্যাঘাত ভারতের

এয়ারস্ট্রাইকের পর ইসলামাবাদের কাছে সবথেকে বড় আতঙ্ক এবং লজ্জার কারণ কী? আকাশসীমা, নিয়ন্ত্রণ রেখা কিংবা পশ্চিমের সীমান্ত রেখা অতিক্রম না করেও পাকিস্তানের প্রধানতম প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে থাকা শহরগুলির নাকের ডগায় হামলা করে আসছে ভারত।

মাত্র ৪০ কিমি, লাহোরের দুয়ারে প্রত্যাঘাত ভারতের
  • ৮ মে, ২০২৫ ১৫:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এয়ারস্ট্রাইকের পর ইসলামাবাদের কাছে সবথেকে বড় আতঙ্ক এবং লজ্জার কারণ কী? আকাশসীমা, নিয়ন্ত্রণ রেখা কিংবা পশ্চিমের সীমান্ত রেখা অতিক্রম না করেও পাকিস্তানের প্রধানতম প্রশাসনিক ও সামরিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে থাকা শহরগুলির নাকের ডগায় হামলা করে আসছে ভারত। সার্জিকাল স্ট্রাইকের সঙ্গে ‘অপারেশন সিন্দুরে’র  প্রধান পার্থক্য হল, ভারতের যুদ্ধবিমান কিংবা স্পেশাল গেরিলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রমই করেনি। কারণ তার দরকার পড়েনি। আধুনিকতম যুদ্ধ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সামরিক বাহিনী ইসলামাবাদ, লাহোরের দোরগোড়ায় বোমা এবং মিসাইল নিক্ষেপ করল। বাহওয়ালপুর ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। সেখান থেকে লাহোর মাত্র ৪০ কিমি। মুরিদকেতে আঘাত হেনেছে। হাফিজ সইদের এই আস্তানা থেকে লাহোরের দূরত্ব মাত্র ৫৫ কিমি। শিয়ালকোট থেকে গুজরানওয়ালা মাত্র ৫০ কিমি। কোটলিতে একাধিক টার্গেট করা হয়েছে। সেখান থেকে ইসলামাবাদের দূরত্ব কত? ১২৭ কিমি। 

Advertisement

রাফাল ফাইটার জেট। এয়ার টু সারফেস ক্রুজ মিসাইল স্কাল্প। হ্যামার এয়ার টু গ্রাউন্ড বম্ব। এই ত্রিশক্তির সঙ্গে সর্বোপরি ‘কে ড্রোন’। যার নাম সামরিক পরিভাষায় সুইসাইড ড্রোন। নির্দিষ্ট টার্গেটের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আকাশে উড়বে, তবে খুব উঁচুতে নয়, যাতে দ্রুত শত্রুপক্ষের রেডারে ধরা না পড়ে। এবং টার্গেট একবার খুঁজে পেলেই সুইসাইড ড্রোন সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাবে। অর্থাৎ একবার নিক্ষিপ্ত হলে সে কাজ হাসিল করতে নিজে ধ্বংস হবে এবং টার্গেটকেও ধ্বংস করবে। ২০১৯ সালের বালাকোটে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের নেতৃত্ব দেয় মিরাজ ২০০০ জেট। ২০২৫ সালে সেই দায়িত্ব পালন করল রাফাল। বহন করল ৩০০ কিমি রেঞ্জসম্পন্ন স্কাল্প মিসাইল। এর ডাক নাম স্টর্ম শ্যাডো। দিনে রাতে যে কোনও আবহাওয়ায় স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল ব্যবহার করা যায়। অ্যাডভান্সড নেভিগেশন সিস্টেম থাকায় বাঙ্কারের আড়াল থেকেও টার্গেট চিহ্নিত করে এই মিসাইল আছড়ে পড়বে নিখুঁত ঠিকানায়। 
হ্যামার নাম শুনলে মনে হবে হাতুড়ির কথা। তার থেকেই এই নাম। আদতে পুরো নাম হাইলি অ্যাজাইল মডিউলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ। ৭০ থেকে ৮০ কিমি রেঞ্জ। হ্যামারের কোডনেম ‘গ্লাইড বম্ব’। বৈশিষ্ট্য হল, যুদ্ধে ব্যবহার করা যে কোনও সাধারণ বম্বের সঙ্গে এই বোমাকে সংযুক্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ নিক্ষিপ্ত হবে সাধারণ বোমা। কিন্তু আছড়ে পড়বে চতুর্গুণ শক্তিশালী হয়ে। হয়েছেও তাই। 
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভারতের সামরিক বাহিনী প্রথমবার এই ত্রিশক্তিকে সবথেকে বড় অভিযানে নামিয়েছিল। প্রথম অভিযানই সফল। রাফাল, হ্যামার, স্কাল্পের যোগ্য সহযাগী সুইসাইড ড্রোন! পাকিস্তান ২৫ মিনিটেই টের পেল ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিছকই ট্রেলার! পূর্ণ যুদ্ধ হলে কী হতে পারে! ওয়াঘা থেকে লাহোর কিন্তু মাত্র ২৩ কিমি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ