Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্কুলে ব্যস্ততার মধ্যে রায় শুনে ভেঙে পড়লেন চাকরিহারারা

হাওড়া-হুগলির বহু স্কুলে বৃহস্পতিবারই ‘শেষ দিন’ কাটিয়ে ফেললেন বহু শিক্ষক!

স্কুলে ব্যস্ততার মধ্যে রায় শুনে ভেঙে পড়লেন চাকরিহারারা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও চুঁচুড়া, সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: হাওড়া-হুগলির বহু স্কুলে বৃহস্পতিবারই ‘শেষ দিন’ কাটিয়ে ফেললেন বহু শিক্ষক! স্কুলে গিয়ে আর পাঁচদিনের মতো পঠনপাঠন বা পরীক্ষা নেওয়ার ব্যস্ততার মধ্যেই জানতে পারেলন, তাঁদের চাকরি চলে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে। সেখানেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন অনেকে। কেউ কেউ চোখ মুছতে মুছতে ছেড়ে গেলেন স্কুল। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় এমনিতেই স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা অপ্রতুল। এই অবস্থায় এক ধাক্কায় এতজন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ার পর পঠনপাঠন কীভাবে চালু রাখা যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

হাওড়া জেলা শিক্ষাদপ্তর সূত্রে খবর, জেলাজুড়ে প্রায় ৪০০ শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই সঙ্গে ৫৪ জন গ্রুপ সি এবং ৪৯ জন গ্রুপ ডি কর্মচারীর চাকরিও বাতিল হয়েছে এই জেলায়। পাঁচলা আজিম মোয়াজ্জেম উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। ফিজিক্সের শিক্ষক অভিজিৎ মাইতি রয়েছেন সেই তালিকায়। স্কুলে শেষবারের মতো ক্লাস করিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘পাঁশকুড়ার বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী রয়েছে। কীভাবে সংসার চালাব! লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ দেওয়ার পরেও বহুবার ভেরিফিকেশন হয়েছিল। তারপর চাকরি পেয়েছিলাম।’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম সামসুদ্দিন বলেন, ‘স্কুলে এখন ৩৯ জন শিক্ষক থাকলেন। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। কীভাবে ক্লাস চালাব, জানি না!’ শ্যামপুরের গুজারপুর সুরেন্দ্রনাথ বিদ্যাপীঠের তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। আমতা-২ ব্লকের ভাটোরা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষক এবং একজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্টের চাকরি বাতিল হয়েছে। দেউলগ্রাম মানকুর বাকসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। 
একই অবস্থা হুগলি জেলায়ও। এই জেলার প্রায় সাড়ে ৮০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে বলে খবর। বাঁশবেড়িয়ার গ্যাঞ্জেস হাইস্কুলের (হিন্দি মাধ্যম) ৪১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে ১৫ জনেরই চাকরি বাতিল হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রায় শূন্য হতে বসেছে। প্রধান শিক্ষক বিশাল তেওয়ারি বলেন, ‘শুধু ক্লাস করানোই নয়, মিড-ডে মিল, কন্যাশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্ব থাকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওপর। এখন কীভাবে কী করব, বুঝতে পারছি না।’ রিষড়া বিদ্যাপীঠের ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনের চাকরি চলে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য বিবাহিত এক দম্পতিও। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে গিয়ে চাকরি বাতিলের খবর পান দাদপুরের হারিট হাইস্কুলের গ্রুপ ডি কর্মচারী জিতেন টুডু। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা-মা নিরক্ষর। চাষাবাদ করে সংসার চলত। ঘুষ দেওয়ার টাকা কোথায় পেতাম? আমার চাকরির পর পরিবারে ভালো সময় এসেছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আমাদের বলি দেওয়া হল।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ