নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: ময়না বিবেকানন্দ কন্যা বিদ্যাপীঠে মোট ৩৩জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১৩জনের চাকরি বাতিল হল। স্কুলে শূন্যপদ ছিল ১০টি। তার উপর একদিনেই ১৩জনের চাকরি চলে যাওয়ায় কীভাবে স্কুল চলবে, তা নিয়ে অথৈ জলে টিআইসি মধুমিতা ভঞ্জ মণ্ডল। নন্দীগ্রামের আসদতলা নিবেদিতা কন্যা বিদ্যামঠে মোট ১৬জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। আদালতের রায়ের পর এদিন দুপুরে ছ’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা চোখের জল ফেলতে ফেলতে স্কুল ছাড়লেন। ‘স্যার, ম্যাডাম’দের এহেন অবস্থা দেখে ছাত্রীদেরও মন খারাপ। প্রধান শিক্ষিকা বনশ্রী ঘোড়ই বলেন, কীভাবে স্কুল চলবে সেটাই চিন্তার।
শুধু ময়না কিংবা নন্দীগ্রামেই নয়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে এরকম তিন হাজারের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি খোয়ালেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই চাকরি খোয়ালেন দেড় হাজার শিক্ষক। কাঁথি-১ ব্লকের নয়াপুট সুধীরকুমার হাইস্কুলের এক শিক্ষক এদিন চাকরি খোয়ালেন। কাঁথি শহরে রাখালচন্দ্র বিদ্যাপীঠে তাঁর স্ত্রীও একই রায়ে চাকরিহারা হলেন। তমলুক শহরে রাজকুমারী সান্ত্বনাময়ী গার্লসের চারজন শিক্ষিকার চাকরি খারিজ হয়েছে। দুপুরে একজন শিক্ষিকাকে কাঁদতে কাঁদতে স্কুল ছাড়তে দেখা যায়। শহরের হ্যামিল্টন হাইস্কুলেও চারজন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী থানার মাধপুর বীণাপানি হাইস্কুলে ছ’জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। একইভাবে শালবনী থানার কলাইমুড়ি নেতাজি হাইস্কুলে একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। কেশপুর হাইস্কুলে চারজন, মুগবসান হক্কানিয়া হাইস্কুলে দু’জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। বেলদা থানার শশিন্দা সাগরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট আটজনের চাকরি বাতিল হয়েছে। এছাড়াও মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বাতিল হয়েছে। ডেবরা ব্লকের বালিচক ভজহরি ইনস্টিটিউশনে চারজন, সবং সারদামণি হাইস্কুলের চারজনের চাকরি বাতিল হয়েছে। বেলদার শশিন্দা সাগরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর তিওয়ারি বলেন, কীভাবে স্কুল চালাব বুঝতে পারছি না।
ঘাটালের দাসপুর-২ ব্লকের বরুণা সৎসঙ্গ হাইস্কুলের তিনজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। ওই ব্লকের গোপালপুর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন হাইস্কুলের তিনজন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এক শিক্ষাকর্মী চাকরিহারা হয়েছেন। চন্দ্রকোণার জিরাট হাইস্কুলের চারজন, পলাশচাপড়ি হাইস্কুলের পাঁচ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, রায় ঘোষণার পর চাকরি খোয়ানো শিক্ষক -শিক্ষিকারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতে খুব সমস্যা হয়ে গেল।
ঝাড়গ্ৰামেও বেশকিছু স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় তাঁরা ভেঙে পড়েছেন। অনেকেই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করছেন। কেউ অন্য কাজে টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ছেলেমেয়েদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করায় প্রতি মাসে মোটা টাকা ফি দিতে হয়। অনেকেব বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন। চাকরি বাতিল হতেই মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। ঝাড়গ্রাম শহরের কুমুদকুমারী ইনস্টিটিউশনের একজন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, শিক্ষকদের মন ভারাক্রান্ত। চাকরি খোয়ানো শিক্ষক ফরিদুল হক বলেন, এই রায় মেনে নিতে পারছি না। বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তান আছে। চাকরি হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়লাম। হতাশ এক শিক্ষক।-নিজস্ব চিত্র