নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অজানা জ্বরে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম সুমন হাঁসদা(১৪)। বাড়ি বিনপুর -২ ব্লকের এড়গোদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের নিশ্চিন্দপুর গ্ৰামে। শুক্রবার মানিকপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য সুমনকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মাধ্যমিক স্তরের আবাসিক স্কুল। হস্টেলে থেকে ৮২ জন ছাত্র পড়াশোনা করে। সুমন গত বছর ওই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সুমন ফুটবল খেলায় পারদর্শী হওয়ায় হস্টেলে থেকে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিল। জ্বর হওয়ায় গত শুক্রবার সকাল থেকে সুমন হস্টেল থেকে বের হয়নি। দুপুরে সুমন ক্যান্টিনে খাবার খেতে না আসায় বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরেই তাকে মানিকপাড়া প্রাথমিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসক তাকে ছেড়ে হয়। সন্ধের সময় জ্বর বাড়লে সুমনকে আবার ওই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সুমনকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়। ওইদিন রাত ১১টা নাগাদ তাকে সিসিইউ বিভাগে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।
মাত্র ১২ ঘণ্টার জ্বরে কিভাবে মৃত্যু হল তা নিয়ে পড়ুয়ার পরিবারের সদস্যরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন। বাবা চৈতন্য হাঁসদা বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যেবেলায় স্কুল থেকে একটা ফোন এসেছিল। প্রথমে সেটা বুঝতে পারিনি। রাত ৮টার সময় হস্টেলের ওয়ার্ডেনকে ফোন করে ছেলের জ্বর হওয়ার কথা জানতে পারি। আমাদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত আসতে বলা হয়। গাড়ি ভাড়া করে হাসপাতালে এসে দেখি, তখনও ছেলেকে নিয়ে আসা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর প্রথমে জেনারেল বেডে রাখা হয়। এরপর সেখান থেকে সিসিইউ বিভাগের নিয়ে যাওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার সময় ছেলে মারা গিয়েছে বলে চিকিৎসক জানান। সামান্য জ্বরে ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।
সুমনের জেঠুর ছেলে বুদ্ধেশ্বর হাঁসদা বলেন, ভাই ফুটবল খেলায় ভালো ছিল। সে জন্য মানিকপাড়া বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিল। তিনদিন আগেও বাড়িতে ফোন করে কথা বলেছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শৈবাল মহাপাত্র বলেন, জ্বর হওয়ার খবর জানার পর সুমনকে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ডাক্তার দেখানোর পর তাকে হস্টেলে ফিরিয়ে আনা হয়। সন্ধ্যের দিকে জ্বর ও সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় ফের মানিকপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক বলেছিলেন, চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু, রাত ৮টার দিকে শ্বাসকষ্ট আরও বাড়লে একপ্রকার জোর করেই সুমনকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। মাত্র ১২ ঘণ্টার জ্বরে কিভাবে মৃত্যু হল সেটাই আমাদের কাছে বিস্ময়কর। সুমন ফুটবল খেলায় পারদর্শী ছিল। ছাত্রের এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বিষয়টি ঝাড়গ্রাম থানা ও জেলার শিক্ষা দপ্তরেও জানানো হয়েছে।