সংবাদদাতা, লালবাগ: চানাচুর কারখানায় ঠিকা শ্রমিকের কাজ করে ছেলেকে পড়িয়েছেন। মাধ্যমিকে ছেলে ভালো ফল করায় চোখে জল বাবার। চোখের জল সামলে বলেন, ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য তার লড়াই জারি থাকবে। প্রয়োজনে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করবেন। একাগ্রতা, অধ্যাবসায় ও লক্ষ্যে স্থির থাকলে জীবনের প্রতিকূলতার হার্ডলগুলিকে সহজেই অতিক্রম করা যায় তা আরও একবার প্রমাণ করল মুর্শিদাবাদ থানার আয়েসবাগ বিদ্যাপীঠের ছাত্র জিৎ ভাওয়াল। মাধ্যমিকে ৬৭১ নম্বর পেয়ে মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের সম্ভাব্য প্রথম জিৎ। বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর বাংলা ৯০, ইংরাজি ৯৪, অঙ্ক ১০০, ভৌতবিজ্ঞান ৯৯, জীবনবিজ্ঞান ৯৫, ইতিহাস ৯৫ এবং ভূগোল ৯৮। তার সাফল্যে পরিবারের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত গ্রামবাসীরা। দুঃস্থ পরিবারের এই কৃতী ছাত্র ভবিষ্যতে একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। তবে তার লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে প্রধান অন্তরায় অর্থ। আর এই বিষয়টি বাবা-মার কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
মুর্শিদাবাদ থানার আয়েসবাগের বাসিন্দা পিন্টু ভাওয়াল পেশায় চানাচুর কারখানার ঠিকা শ্রমিক। স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে তিনজনের সংসার। দিনভর যা উপার্জন হয় তা দিয়ে কোনরকমে ডালভাত জুটলেও সংসারের অন্য প্রয়োজন মেটে না। সেই কারণে ছেলেকে ঠিকমতো টিউশন দিতে পারেননি। স্ত্রী জুঁই ভাওয়াল গৃহবধূ। জিৎ বরাবর পড়াশোনায় ভালো। শুরু থেকেই সে ক্লাসে প্রথম হয়ে এসেছে। জিৎ জানিয়েছে, ঘড়ি ধরে পড়াশোনা করিনি। যখন ভালো লাগত তখন পড়তে বসতাম। তবে সারাদিনে ৭-৮ ঘন্টা পড়াশোনা করতাম। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার মাস ছয়েক আগে থেকে ১০-১২ ঘন্টা করে পড়াশোনা করতাম। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গৃহশিক্ষকের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকরা সাহায্য করেছেন। তবে মা বাড়িতে সবসময় পাশে থেকে গাইড করতেন এবং উৎসাহ দিতেন। পিন্টু ভাওয়াল বলেন, দিনমজুরির উপর তিনজনের সংসার। মাসের মধ্যে ২০-২২ দিন কাজ জোটে। তা দিয়েই জোড়াতালি দিয়েই চলতে হয়। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হতে যায়। তাকে লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। মা জুঁই ভাওয়াল বলেন, আর্থিক কারণে ছেলেকে সেভাবে টিউশন দিতে পারিনি। স্কুলের শিক্ষকরা সবসময় পাশে থেকেছেন। তাদের সাহায্য ছাড়া এই রেজাল্ট সম্ভব হত না। তবে আমি কখনও ছেলেকে প্রতিযোগিতায় ঠেলিনি। সবসময় বলেছি, লক্ষ্যে স্থির থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাও, সাফল্য আসবেই।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য অনেক অর্থ প্রয়োজন। কোন সহৃদয় ব্যক্তি বা সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে ছেলের উচ্চ শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়াটা অনেক সহজ হত। আয়েসবাগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস মণ্ডল বলেন, ছেলেটি প্রথম থেকে পড়াশোনায় ভালো। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় স্কুলের শিক্ষকরা সবসময় পাশে থেকেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা অশোক পাল বলেন , জিৎ ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো। আমরা জানতাম মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করবে। -নিজস্ব চিত্র