বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-ই-ইসলামি পরিচালিত স্কুলগুলি নিজেদের হাতে নিল জম্মু-কাশ্মীর সরকার। ওই স্কুলগুলির প্রায় ৫১ হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে প্রশাসন। শনিবার সকালে ১০ জেলার ২১৫ স্কুলে যান পুলিস ও সরকারি আধিকারিকরা। যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখে সেগুলির হাতবদল হয়। সেখানে ছিলেন সংলগ্ন সরকারি স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষকরাও। গোটা প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবেই হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
২০১৯ সালে বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে ইউএপিএ-র আওতায় জামাত-ই-ইসলামিকে নিষিদ্ধ করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ওই সংগঠনেরই ফতেহ-ই-আম ট্রাস্ট দু’শোটিরও বেশি স্কুল চালাতো।
শুক্রবার সেই স্কুলগুলিকে নিজেদের হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কাশ্মীরের শিক্ষাদপ্তর। স্কুলগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু করতেও জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই পদক্ষেপ ঘিরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলের ওমর আবদুল্লা সরকার। জামাতের প্রাক্তন সদস্যদের দাবি, এটা সরকারের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ছাড়া অন্য কিছু নয়। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, ‘এই পদক্ষেপ উপত্যকার মানুষের স্বার্থবিরোধী। এভাবে ওমর সরকার বিজেপির এজেন্ডা পূরণ করছে।
যদিও স্কুলগুলির শিক্ষকদের অনেকেই সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনন্তনাগের হস্তান্তর হওয়া এক স্কুলের শিক্ষক মহম্মদ আশিক বলেছেন, ‘আমরা খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলাম। আশাকরি এবার সব ঠিকঠাক হবে।’