Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ভিডিও-ছবি পিছু ২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিত আইএসআই , চর জ্যোতিকে জেরা করে জানল হরিয়ানা পুলিস

খবর, ছবি বা তথ্য পাঠাতে পারলে মিলবে মোটা টাকা। নগদে বা ইউপিআই অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট চলে যাবে। কী ধরনের তথ্যের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হতো, পাক গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট সন্দেহে ধৃত ইউটিউবা জ্যোতি মালহোত্রার কাছ থেকে এই তথ্য জানার পর অবাক তদন্তকারীরা

ভিডিও-ছবি পিছু ২ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিত আইএসআই , চর জ্যোতিকে জেরা করে জানল হরিয়ানা পুলিস
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খবর, ছবি বা তথ্য পাঠাতে পারলে মিলবে মোটা টাকা। নগদে বা ইউপিআই অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট চলে যাবে। কী ধরনের তথ্যের জন্য ঠিক কত টাকা দেওয়া হতো, পাক গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট সন্দেহে ধৃত ইউটিউবা জ্যোতি মালহোত্রার কাছ থেকে এই তথ্য জানার পর অবাক তদন্তকারীরা। কীভাবে সেই তথ্য সংগ্রহের কাজ চলত, গোটাটাই অফিসারদের কাছে উগড়ে দিয়েছেন জ্যোতি। অভিযুক্ত মহিলা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ভালো দিকগুলি তুলে ধরতেই ভারতের বিভিন্ন ট্রাভেল ভ্লগারদের ‘নিশানা’ করেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা। জ্যোতির বিভিন্ন সময়ের সহযোগী এবং একসঙ্গে পাকিস্তান সহ বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো ওড়িশা, হরিয়ানা, রাজস্থান, দিল্লি এবং এ রাজ্যের এরকম ২০ জন ভ্লগার এখন ভারতীয় গোয়েন্দাদের ‘নিশানায়’। 

Advertisement

সবমিলিয়ে গোটা দেশজুড়ে ‘অপারেশন মীরজাফর’এ এখনও পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তার মধ্যে ছাত্র থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিও পর্যন্ত রয়েছেন। জ্যোতিকে জেরা করে হরিয়ানার হিসার পুলিসের স্পেশাল টিম জানতে পারছে, পাক আইএসআই বিপুল পরিমাণ টাকা ঢালছে, ভারতের বিভিন্ন তথ্য পেতে। এই টাকা ‌জ্যোতির  মাধ্যমে আসতে শুরু করেছিল। বিভিন্ন পেশার মানুষকে নিয়োগ করার পিছনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল আইএসআইয়ের। তদন্তে উঠে আসছে জ্যোতি শিক্ষিত যুবক বা ব্যবসায়ীদের মগজ ধোলাই করে চর হিসেবে নিয়োগ করেছেন। সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জ্যোতি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সেনা নতুন কী প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কোন কোন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হতো শিক্ষিত যুবকদের। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা হতো, কী কী মেটিরিয়াল সাপ্লাই করা হয়েছে। জ্যোতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ইনপুটের জন্য আলাদা আলাদা টাকা ধার্য ছিল। অল্পশিক্ষিত বা  সেনা ক্যাম্পের ভিতরে কোনও ঠিকাদার সংস্থার হয়ে কাজে যাওয়া শ্রমিকদের সেখানকার ইনস্টলেশন সম্পর্কে খবরাখবর, ছবি বা ভিডিও তুলে পাঠাতে বলত আইএসআই। এই কাজের জন্য তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিত পাক গুপ্তচর সংস্থা।  আর সেনার প্রশিক্ষণ, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার বা কীভাবে বিভিন্ন প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করছে এই খবর বা ভিডিও দিলে মিলত ১২-১৫ হাজার। যত বেশি সম্ভব বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা যায়, সে চেষ্টাই চালাচ্ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা। 
জ্যোতিকে জেরা করে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সি জেনেছে. হোয়াটাস অ্যাপ ভিডিও শেয়ার করা হতো। যে সমস্ত নম্বরগুলি থেকে তথ্য পাকিস্তানে গিয়েছে, সেই সিমগুলির বিষয়ে কোনও ডিটেইলসই পাচ্ছেন না তদন্তকারীরা। জ্যোতি তাঁদের জানিয়েছেন,বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভুয়ো নথি জমা করে সিম তুলতেন তিনি। এরপর ওই সিম পাকিস্তানে বসে থাকা আইএসআই ও সেনা আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হতো। আর বাকিটা ব্যবহার করতেন ভিডিও বা ছবি পাঠানোর জন্য। পাক গুপ্তচর সংস্থার কর্তারা ভারতীয় নম্বরে এগুলি রিসিভ করতেন। হোয়াটস অ্যাপ ইনস্টল করে দেবার পর তাঁরা সিম ফেলে দিতেন। যে কারণেই সিমের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই এহেন ১০০’র বেশি সিম চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা। সেগুলিকে ব্লক করার জন্য সার্ভিস প্রোভাইডারদের বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ