নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইএসআই চরদের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গকে ‘হাব’ হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার শীর্ষকর্তারা। প্রতিমাসে ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢোকাচ্ছে পাকিস্তান। কলকাতাসহ রাজ্যে আইএসআইয়ের টাকা রিসিভ করেছে এমন ৫০টি অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে এনআইএ। একইসঙ্গে সিআরপিএফের এএসআই মোতিরাম জাঠকে অসমের যে মহিলা হানি ট্রাপের ফাঁদে ফেলে তার সঙ্গে কলকাতার কয়েকজনের যোগ মিলেছে বলে খবর।
আধা সেনার এএসআইয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করে জানা যায়, কলকাতা থেকে তার কাছে টাকা এসেছে। এর সঙ্গে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধৃত পাক চরদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তারা টাকা পেত কলকাতার কয়েকজনের ইউপিআই অ্যাকাউন্ট থেকে। সেই সূত্রে শনিবার কলকাতার তিন জায়গায় তল্লাশি চালায় এনআইএ। বিভিন্ন ইউপিআই অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জেনেছেন, পাকিস্তানে বেনামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলেছে পাক আইএসআই এর আধিকারিকরা। সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের কারা কারা কলকাতার সঙ্গে কারবার চালায় তাদের চিহ্নিত করে। এরপর তাদের মাধ্যমে কলকাতা তথা সীমান্ত এলাকায় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগযোগ করে। তাদের বাড়তি কমিশনের টোপ দিয়ে পাকিস্তানের ভুয়ো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরপর এই টাকা পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির আধার বা ভুয়ো আধার ব্যবহার করে একাধিক
ইউপিআই অ্যাকাউন্ট খোলে। পাকিস্তান থেকে এই সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলির কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইএসআই চরদের নামের তালিকা ও অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠানো
হয়। তদন্তকারীরা জেনেছেন, কলকাতার ইউপিআই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় চরদের কাছে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ধরনের ৫০টি অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলির অনেকে হাওলা করবার চালায়। পাকিস্তান থেকে হাওলা করেও
টাকা তাদের কাছে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। হাওলা রুটে আসা টাকাও পাক চরদের কাছে গিয়েছে বলে খবর। আধিকারিকরা জেনেছেন, প্রতিমাসে ১৫-২০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। যে আইএসআই কর্তারা টাকা পাঠাত তাদের সঙ্গে চরদের কাছে টাকা পাঠানোর
মাধ্যম হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের কথোপকথন ও মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের ওই কর্তারা ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে মেসেজ করেছে। এখান থেকে তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলির মালিকরা পাক গুপ্তচর সংস্থা আর কর্তাদের ভারতীয় নম্বর পাঠিয়েছে। এমনকী, যে নম্বর ব্যবহার করে অসমের মহিলা আধাসেনার জওয়ানকে হানি ট্র্যাপে ফাঁসায় সেই নম্বরটি কলকাতা সার্কেলের! এমনকী, এখানকার কয়েকজন লোক ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলেছে বলেও এনআইএ সূত্রের খবর। জেরার জন্য তাদের তলব
করা হচ্ছে।