লখনউ: কঠিন চ্যালেঞ্জ টপকাতে পারল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৪২ রানে হেরে গেলেন বিরাট কোহলিরা।
লখনউ: কঠিন চ্যালেঞ্জ টপকাতে পারল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে ৪২ রানে হেরে গেলেন বিরাট কোহলিরা।
শুক্রবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ছয় উইকেটে তুলেছিল ২৩১। জবাবে ১৮৯ রানে গুটিয়ে যায় আরসিবি। কোটিপতি লিগের চলতি আসরে এই নিয়ে ৪২বার দুশো প্লাস স্কোর উঠল, যা রেকর্ড। গতবছর আইপিএলে ৪১বার দুশো পেরিয়েছিল স্কোর। এই হারের ফলে ১৩ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
একানা স্টেডিয়ামে সানরাইজার্সকে টানলেন ঈশান কিষান। ঠিক দু’মাস আগে, ২৩ মার্চ হায়দরাবাদে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন বাঁ-হাতি। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৪৭ বলে এসেছিল ১০৬ নট আউট। তারপর থেকে বড় রান পাননি তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর এদিন অবশ্য ছন্দে দেখাল তাঁকে। আরসিবি’র বিরুদ্ধে ৪৮ বলে অপরাজিত ৯৪ করলেন ২৬ বছর বয়সি। তাতে থাকল সাতটা বাউন্ডারি ও পাঁচটা ছক্কা। পেসারদের বিরুদ্ধে তুলনায় বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন ঈশান। ২৬ বলে নেন ৫৫ রান। স্পিনে ২২ বলে তাঁর সংগ্রহ ৩৯। তিন নম্বরে নেমে একটা দিক ধরে রেখে আগাগোড়া দলকে ভরসা দেন ঈশান। এই ইনিংস সেজন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। আর এক বল পেলেই হয়তো মরশুমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত থামলেন শতরানের দোরগোড়ায়।
সানরাইজার্স ইনিংসের প্রথম ১২ ওভারে ওঠে ১৪৭। ওপেনিংয়ে চার ওভারে ৫৪ তুলে বড় রানের ভিত গড়ে দেন অভিষেক শর্মা ও ট্রাভিস হেড। করোনা সারিয়ে খেলতে নামা হেডের সংগ্রহ ১৭। অভিষেক ২০০ স্ট্রাইক রেটে করেন ৩৪। চারে নামা হেনরিখ ক্লাসেনও (২৪) ছিলেন মেজাজে। তখন জল্পনা শুরু হয়ে যায়, কমলা জার্সিধারীরা কি তিনশোর গণ্ডি টপকাবে? কিন্তু পরের পাঁচ ওভারে কমে রানের গতি। এই সময় আসে মাত্র ৪১। অনিকেত ভার্মা (২৬), নীতীশ কুমার রেড্ডি (৪) ও অভিনব মনোহর (১২) ফেরেন পরপর।
কিন্তু শেষ তিন ওভারে ফের ওঠে ঝড়। ৪৩ রান যোগ হয়। হায়দরাবাদ ক্যাপ্টেন প্যাট কামিন্স ৬ বলে অপরাজিত থাকেন ১৩ রানে। তবে ঈশানের ধুন্ধুমার ব্যাটিংই বড় স্কোরে পৌঁছে দেয় দলকে। ডিহাইড্রেশনের জন্য ঈশান অবশ্য ফিল্ডিং করতে নামেননি।
২৩২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ঝড়ের গতিতে শুরু করে বেঙ্গালুরুও। সপ্তম ওভারের শেষ বলে হর্ষ দুবের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিরাট। ২৫ বলে ভিকে মারেন সাতটি চার ও একটি ছক্কা। সঙ্গী ওপেনার ফিল সল্ট ফিরলেন ৬২ রানে। এরপর আর কেউ উইকেটে দাঁড়াতে পারলেন না। জিতেশ শর্মা সামান্য লড়লেন ২৪ রান করে। এক বল বাকি থাকতেই ১৮৯ রানে সব উইকেট হারাল বেঙ্গালুরু।