নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১৫ টাকার জলের বোতল ২০ টাকায়। ১০ টাকার কফি ২০ টাকায়। ৪০ টাকার নুডলস ৫০ টাকায়। জলের বোতল আবার ‘রেল নীর’ নয়। স্থানীয় কোম্পানির। ট্রেনে এমনই ‘ওভারচার্জিং’য়ের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। ট্রেনে বসে রেলমন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ‘ট্যাগ’ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগ পেয়ে রেল হস্তক্ষেপও করে। কিন্তু তার ফল হল মারাত্মক। অন-বোর্ড আইআরসিটিসি কর্মীদেরই গুন্ডাগিরির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। কেন অভিযোগ করেছেন, এই প্রশ্ন তুলে রাতের বেলায় তাঁর আপার বার্থে উঠে ওই যাত্রীকে বেদম মারধর করে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের প্যান্ট্রি কারের কয়েকজন কর্মী। মারের চোটে ওই যাত্রীর হাত কেটে যায়। মুখেও আঘাত লাগে। ঘটনাচক্রে এহেন হুমকি-হঁশিয়ারি এবং মারধরের পুরো পর্বই তিনি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। সেই ভিডিও প্রকাশ পেতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, ফের প্রশ্নের মুখে রেল যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা।
গত ৬ মে ঘটনাটি ঘটেছে হেমকুন্ত এক্সপ্রেসে। থার্ড এসিতে করে বিশাল শর্মা নামের ওই যাত্রী হৃষিকেশ থেকে শ্রীমাতা বৈষ্ণেদেবী কাটরায় যাচ্ছিলেন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাতের বেলায় প্যান্ট্রি কারের কয়েকজন কর্মী কোচের আলো জ্বালিয়ে বিশালকে ডাকছেন। ‘অভিযোগ জানিয়েছেন কেন? নীচে নেমে আসুন। আপনার সঙ্গে কথা বলব।’ যদিও প্যান্ট্রি কারের কর্মীদের ওই হুঁশিয়ারিতে না দমে বিশাল সাফ জানান, তিনি বার্থ থেকে নীচে নামবেন না। যা বলার এখানেই বলতে হবে। তখনই দেখা যায়, কর্মীদের একজন তাঁর পা ধরে টানছে। একজন ছুটে এসে মোবাইল হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এরপর প্যান্ট্রি কারের এক কর্মী সটান আপার বার্থে উঠে আসে। অভিযোগকারী যাত্রীকে বেদম কিল-ঘুষি মারতে থাকে। মারের চোটে মোবাইল বিশালের হাত থেকে পড়ে যায়। পরে ওই ভিডিওটিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিশাল। সরাসরি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ‘ট্যাগ’ করেন।
অন-বোর্ড আইআরসিটিসি কর্মীদের এহেন গুন্ডাগিরি দেখে নড়েচড়ে বসে রেল। জানা যায়, প্যান্ট্রি কারের যে কর্মী মারধর করেছে, তার নাম পবন কুমার। রেল জানিয়েছে, ওই কর্মীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্রিমিনাল চার্জ এনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাতেই কাজ না পায়, তা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কালো তালিকাভুক্ত করা হয় ওই বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকেও। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে ওই সংস্থা রেলের আর কোনও প্রজেক্টেই কাজ পাবে না। এমনকী রেলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে ওই সংস্থাকে।
কিন্তু তারপরও সমালোচনায় বিদ্ধ রেল। কারণ, দূরপাল্লার সাধারণ মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনে অনেক সময়ই এমন ওভারচার্জিংয়ের অভিযোগ করেন রেল যাত্রীরা। এক শ্রেণির অসাধু কর্মী এভাবে মৌরসিপাট্টা চালালে কি ভয়ে নিশ্চুপ থাকবেন সাধারণ রেল যাত্রীরা? প্রশ্ন উঠছেই।