তেহরান: ‘সাহস থাকলে পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠান।’ দিনকয়েক আগে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন। এখানেই শেষ নয়। ইজরায়লের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যকে উপহাস করে ‘মিসাইল সারপ্রাইজে’র হুমকিও দিয়েছিলেন। ঠিক তার কয়েকঘণ্টা পরই শুক্রবার ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় খতম ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলি মহম্মদ নাইনি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে হারিয়ে এদিন শোকপ্রকাশ করেছে ইরানি সেনা। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘ভোরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসবাদী হামলায় শহিদ হয়েছেন আমাদের মুখপাত্র। তাঁর ভাবধারা ও আদর্শ বেপরোয়া শক্তিগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পথ দেখাবে।’
শুরুতে খামেনেই। তারপর একে একে লারিজানি, বসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি, গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব। আর এবার সেনা মুখপাত্র আলি মহম্মদ নাইনি। শীর্ষস্তরের একের পর এক নেতাকে হারিয়েও আত্মসমর্পণে নারাজ তেহরান। যুদ্ধের ২১তম দিনে হামলা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এদিন কুয়েতের তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সেদেশের নতুন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইর হুঁশিয়ারি, শত্রুদেশের যাবতীয় নিরাপত্তাবেষ্টনী ছারখার করে দেওয়া হবে। এবার হামলা আরও ভয়ংকর হবে।
যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওরা আর ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করতে পারবে না। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে শেষ বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর সেই মন্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছিলেন ইরানি সেনার মুখপাত্র নাইনি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের মিসাইল ইন্ডাস্ট্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করছে। এমনকি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রেখেছি। উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। ক্রমে যুদ্ধ আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সেই হিসাবে শত্রুপক্ষের জন্যও মিসাইল সারপ্রাইজ আসছে।’ এমন হুমকি দেওয়ার কয়েকঘণ্টার ব্যবধানেই শত্রুপক্ষ ইজরায়েল ও আমেরিকার হাতেই মৃত্যু হল নাইনির।