ওয়াশিংটন: দেশের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর মৃত্যুর পর ‘সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তারপর থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। সোমবার তৃতীয় দিনেও ফের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এরইমধ্যে, ইরানের হামলার নিন্দায় সরব আমেরিকা ও তার উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলি। একযৌথ বিবৃতিতে অসামরিক এলাকায় ইরানের হামলার বিরোধিতা করা হয়েছে। অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ওই দেশগুলি। পালটা ইরানের দাবি, মার্কিন ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তাদের দেশে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর জবাবেই উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরান আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব আলোচনায় বসতে চায়। এব্যাপারে তিনি রাজি।
এরইমধ্যে এদিন তেল আভিভে এয়ার রেড সাইরেন বেজে ওঠে। একই সময় দুবাই, আবুধাবি, দোহাতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। জেরুজালেমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে ইজরায়েল। ইরাকের এরবিল বিমানবন্দরের কাছেও নামানো হয়েছে একটি ড্রোন। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কাছে দেখা দিয়েছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ইরানে লাগাতার হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। দুবাইয়ে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দু’জন গুরুতর আহত হয়েছে। আবুধাবি বিমানবন্দরে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে একজনের। আহত আরও কয়েকজন। বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলির অন্যতম দুবাই বিমানবন্দরেও প্রভাব পড়েছে। কুয়েত বিমানবন্দরেও হামলার জেরে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কাতার জানিয়েছে, ইরান তাদের দেশে ১২ টি ড্রোন ও ৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এগুলির বেশিরভাগই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে কয়েকজন আহতও হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রিয়াধ ও প্রিন্স সুলতান এয়ারবেস লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে খবর। ওমানে একটি ড্রোন হামলার খবর মিলেছে।