


তেহরান: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে কে বসবেন? এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই নিয়ে চর্চার শেষ নেই। প্রাথমিকভাবে শোনা গিয়েছিল মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত আয়াতোল্লার ছেলে মোজতবা খামেনেইকেই সর্বোচ্চ নেতার পদে বসানো হচ্ছে। যদিও সেই সময় ইরান জানিয়ে দেয়, মোজতবার বিষয়ে যে খবর ছড়িয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত এই সংস্থাই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নেয়। তবে কে এই পদে বসতে চলেছেন, তা এখনই ঘোষণা করা হচ্ছে না। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের অন্যতম সদস্য আহমদ আলামোলহোদা বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার জন্য ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং নেতা বেছে নেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু কেন নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পর যিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসবেন, তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। যেভাবে দিনের আলোয় নিখুঁত নিশানায় আক্রমণ চালিয়ে আয়াতোল্লাকে হত্যা করা হয়েছে, তারপরে আর সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করে ঝুঁকি নিতে চাইছে না ইরান। এমনকি, পরবর্তী নেতার নাম নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর খবর ছড়াতেই ইজরায়েলি সেনা নতুন করে জানিয়েছে, যিনিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হতে চাইবেন, তাঁকেই নিশানা করা হবে।
১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার পদে বসেছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তারপর থেকে একটানা তিনি ওই পদে ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই প্রাণ হারান খামেনেই। প্রাণ হারান তাঁর স্ত্রী সহ পরিবারের একাধিক সদস্য। তারপর থেকে তিন সদস্যের একটি কাউন্সিলই ইরানের দায়িত্ব সামলাচ্ছে। উত্তরসূরির বিষয়ে আগেই একটি তালিকা তৈরি করে রেখেছিলেন খামেনেই। যদিও তাতে দ্বিতীয় ছেলে মোজতবার নাম ছিল না। কয়েকটি সূত্রের দাবি, নাম ঘোষণা না হলেও সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে মোজতবার পাল্লাই ভারি। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের অপর সদস্য মোহসেন হায়দারিও জানিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থীকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। একই দাবি করেছেন মহম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি।