


ওয়াশিংটন: শান্তি চুক্তি নিয়ে এখনও টানাপোড়েন জারি। ইরান-আমেরিকাকে এক টেবিলে বসাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পাকিস্তান। এরইমাঝে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। এর জেরে কুয়েত, কাতার, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মার্কিন ঘাঁটিগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটিগুলির মেরামত করতে ট্রাম্পের কোষাগার থেকে বেরিয়ে যাবে কয়েকশো কোটি ডলার। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এযাবৎ যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। এব্যাপারে তথ্য গোপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় কুয়েত, কাতার সহ কমপক্ষে সাতটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানি সেনা। বোমার আঘাতে ছারখার স্টোরেজ ওয়ারহাউস, কমান্ড সেন্টার, এয়ারক্রাফ্ট হ্যাঙ্গার, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সিস্টেম সহ একাধিক জায়গা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রানওয়ে, রাডার সিস্টেম সহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান। এর জেরে বিপর্যস্ত নজরদারি ব্যবস্থাও। যুদ্ধের কয়েকদিন পর আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের এমন হাল হয় যে, একটি পুরানো ইরানি এফ-৫ ফাইটার জেটও তা ভেদ করে হামলা চালায়।
কিন্তু এখনও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও এনিয়ে নীরব। সূত্রে খবর, এভাবে তথ্য গোপন করায় বেজায় চটেছেন খোদ মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরাও। ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের দাবি জানিয়েছে পেন্টাগন। তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহেই ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে ওয়াশিংটন। যা রীতিমতো চিন্তার বিষয়। এই পরিস্থিতিতে সামরিক ঘাঁটিগুলি মেরামতের পাহাড় প্রমাণ খরচ নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাংশের মতে, এর জেরে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন ট্রাম্প। তাঁকে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হতে পারে।