


ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: শনিবারের রাত। ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলের বলরুমে আড়াই হাজারেরও বেশি অতিথির ভিড়। উপলক্ষ্য হোয়াইট হাউসে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠনের বার্ষিক নৈশভোজ। হাইপ্রোফাইল অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স, তাঁদের পরিবার সহ মার্কিন প্রশাসনের তাবড় কর্তা-ব্যক্তিরা। প্রথমবার সাংবাদিকদের এই নৈশভোজে যোগ দিয়েছেন ট্রাম্প। তাই তিনি কী বলেন, তার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন সকলে। হঠাত্ই ছন্দপতন! হুল্লোড়ের শব্দ ছাপিয়ে শোনা গেল একের পর এক গুলি চলার শব্দ। সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি শুরু হয় হোটেলজুড়ে। আত্মরক্ষার জন্য টেবলের নীচে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন অনেকে। বন্দুকবাজের মূল টার্গেট যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প ও ভান্সকে ঘিরে ধরেন তাঁরা। একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে ভান্সকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নিয়ে যান নিরাপত্তা কর্মীরা। প্রেসিডেন্ট প্রথমে কিছু বুঝতেই পারেননি। তবে, কয়েক মুহূর্ত পরেই ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়াকেও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, বন্দুকবাজকে কাবু করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্তের নাম কোল টমাস অ্যালেন। ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ৩১ বছরের অ্যালেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। পরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সও করেন। বছর কয়েক আগে নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরিতে ফেলোশিপেও যোগ দিয়েছিলেন অ্যালেন। বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসাবে কাজ করতেন। হঠাত্ তিনি কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীর একাধিক ছবি সামনে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, অ্যালেনকে খালি গায়ে মাটিতে শুইয়ে রেখেছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। অন্য একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নিরাপত্তার বর্ম পেরিয়ে দৌড়ে ভিতরে ঢুকে যাচ্ছেন অ্যালেন। আপাতত তাঁকে জেরা করা হচ্ছে।
হামলার ঘণ্টাখানেক পর সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প জানান, ‘লোন উলফে’র কায়দায় হামলা চালায় অভিযুক্ত। তার কাছে একাধিক অস্ত্র ছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘ওই লোকটা খুবই অসুস্থ ছিল। ও ৫০ গজ দূর থেকে দৌড়ে আসে। তবে, বলরুম সুরক্ষিতই ছিল। ও বলরুমের ভিতরে ঢুকতেই পারেনি। সিক্রেট সার্ভিস খুব দ্রুত কাজ করেছে।’ ট্রাম্প জানান, হামলাকারীকে ধরতে গিয়ে এক নিরাপত্তা আধিকারিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকায় কোনো বিপদ হয়নি। ‘হত্যাকারী’র হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের ধন্যবাদও জানান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, হিলটন হোটেলটি মোটেও সুরক্ষিত নয়। এই হামলার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের যোগ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার তেমনটা মনে হয় না। তবে কিছুই বলা যায় না।’ একইসঙ্গে দাবি করেন, কোনো কিছুই তাঁকে ইরান যুদ্ধ জয়ের পথ থেকে হটাতে পারবে না। ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে হামলার কড়া নিন্দা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রে হিংসার কোনো স্থান নেই। এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী ও ভান্স নিরাপদ জেনে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন।