নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই বর্ধমানে বেশকিছু নার্সিংহোম চলছে। কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্যদপ্তরের একটি টিম নার্সিংহোমগুলিতে অভিযান চালায়। ১৩টি নার্সিংহোম বৈধ নথি দেখাতে পারেনি। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও তারা রিনিউ করেনি। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ওই নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ নথি ছাড়া কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান চালানো যাবে না। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, নার্সিংহোমগুলিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। কোথাও অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর নার্সিংহোমের লাইসেন্স রিনিউ করতে হয়। পরিকাঠামো অনুযায়ী ফি ধার্য হয়। নার্সিংহোমে কতগুলি বেড রয়েছে, আইসিইউ বা ডায়ালিসিস করার ব্যবস্থা রয়েছে কিনা এসব দেখা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স রিনিউ না করলে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, লাইসেন্স না থাকলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। কোনও অঘটন হলে রোগীরা বিপাকে পড়েন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তা রিনিউ করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। অল্প কিছু টাকা দিয়ে অনেকেই তা রিনিউ করতে আগ্রহী নয়। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা অভিযান চালিয়ে জানতে পারেন ১৩টি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স রিনিউ করেনি। এটা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। কিছু নার্সিংহোম নিয়ম মেনে পরিষেবা দিচ্ছে। কিন্তু কয়েকটি নার্সিংহোমের মালিক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা থাকলেও বিভিন্ন অছিলায় রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনও অভিযোগ আসছে। সেইসমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রোগ্রেসিভ নার্সিংহোম অ্যান্ড হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ আলহাজউদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে কেউ নার্সিংহোম চালালে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনও অনিয়ম কাজ আমরা সমর্থন করি না। টেকনিক্যাল কারণের জন্য কেউ লাইসেন্স রিনিউ না করতে পারলে সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু কেউ যদি নিয়মের তোয়াক্কা না করে নার্সিংহোম চালায় তাদের পাশে সংগঠন থাকবে না।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নবাবহাট এলাকার বেশ কয়েকটি নার্সিংহোমের পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ‘দালাল’রা মগজধোলাই করে রোগীদের নিয়ে আসে। রোগী ভর্তি করতে পারলে তারা মোটা টাকা কমিশন পায়। সেটির কোড নাম ‘আইপি’। রামপুরহাট, সিউড়ি সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগী এনে তারা ওই নার্সিংহোমগুলিতে ভর্তি করে ফায়দা তুলছে বলে অভিযোগ।