সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বন্যপ্রাণী চোরাশিকারের আন্তর্জাতিক কিংপিন রিকচ নার্জিনারীকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল আলিপুরদুয়ারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। শনিবার আদালত এই সাজা দিয়েছে। এদিন রিকচ নার্জিনারীর তিন সঙ্গী পরেশ রায়, বরুণ রায় ও রণজিৎ রায়কেও চার বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে আদালত সাজাপ্রাপ্ত চারজনকেই মাথাপিছু ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছে।
২০১৪ সাল থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একের পর এক গন্ডার নিধনের ঘটনার সঙ্গে রিকচ নার্জিনারীর হাত ছিল বলে বনদপ্তরের দাবি। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের গন্ডার হত্যার কিংপিন এই রিকচ নার্জিনারী ডেভিড গুইট ওরফে দামড়া নামেও পরিচিত ছিল। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারকারীদের সঙ্গে রিকচ নার্জিনারীর সরাসরি যোগসাজশ ছিল বলে দাবি জলদাপাড়া বনবিভাগ কর্তৃপক্ষের। বনদপ্তর বহু দিন ধরে রিকচ নার্জিনারীকে ধরার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছিল। অবশেষে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিসের সহায়তায় ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অসমে বনদপ্তরের জালে রিকচ ধরা পড়ে। গন্ডার নিধনের জন্য রিকচের দলটিকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করত লুকাস বসুমাতারী নামে আর এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী। সেই লুকাস বসুমাতারীকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল বনদপ্তর। সে এখন ছয় বছরের জেলের সাজা খাটছে।
অন্যদিকে, একশৃঙ্গ গন্ডার হত্যায় রিকচের দলের মধ্যে থাকা দক্ষ শার্প শ্যুটার লেকেন বসুমাতারীকেও ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার করে বনদপ্তর। পরে জেল খাটার সময় অসুস্থ হয়ে মারা যায় ওই শার্প শ্যুটার। উল্লেখ্য, জলদাপাড়া ছাড়াও গোরুমারার জঙ্গলে গন্ডার নিধনের ঘটনায় এই রিকচের বিরুদ্ধে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পৃথকভাবে আরও একটি মামলা চলেছে অনেক দিন ধরে।
বনদপ্তরের দাবি, গোরুমারা ও জলদাপাড়া উত্তরবঙ্গের দুই জঙ্গলে হাতির দাঁত পাচার ও গন্ডার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীরা সবাই এখন প্রায় জেলে। ফলে দুই জঙ্গলে বন্যপ্রাণী হত্যা বা দেহাংশ পাচারের ঘটনা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। রিকচ নার্জিনারীর সঙ্গে তার সঙ্গীদেরও চার বছর সাজা ঘোষণা হওয়ায় উচ্ছ্বসিত বনদপ্তর ও প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠনগুলি।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান বলেন, বন্যপ্রাণী হত্যা ও দেহাংশ পাচারের সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীরা প্রায় সবাইকেই আমরা ধরতে পেরেছি। এদিন আলিপুরদুয়ার জেলা আদালত রিকচ নার্জিনারী ও তার তিন সঙ্গীকে চার বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ায় আমরা খুশি। আমরা আশাবাদী, আদালতের এই রায়ের পর ভবিষ্যতে কেউ বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করার আগে দু’বার ভাববে। নিজস্ব চিত্র।