Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সহ তিনজন সহযোগীকে

বিজ্ঞানে বিশ্বভারতীর সাফল্যের মুকুটে ফের নতুন পালক যোগ হল।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সহ তিনজন সহযোগীকে
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ইন্দ্রজিৎ রায়, বোলপুর: বিজ্ঞানে বিশ্বভারতীর সাফল্যের মুকুটে ফের নতুন পালক যোগ হল। সুইজারল্যান্ডে ঈশ্বরকণা সংক্রান্ত লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডরের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিশ্বভারতীর পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক মানস মাইতি ও তাঁর তিন ছাত্র পেলেন আন্তর্জাতিক ব্রেক থ্রু ২০২৫ পুরস্কার। শুধু তাঁরাই নন, লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডরের চারটি প্রধান পরীক্ষা-নিরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদেরও এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ খবর জানাজানি হতেই বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসে খুশির হাওয়া। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ অধ্যাপক মাইতি ও তাঁর সহযোগীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এদিন বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি মারফত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ।

Advertisement

ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সংক্ষেপে সার্ন) পরিচালিত লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডরের পরীক্ষা দীর্ঘদিন ধরে চলছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা সেখানে বছরের পর বছর গবেষণা করতেন। ‌সেই গবেষণায় বিশ্বভারতীর পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক মানস মাইতি ও তাঁর তিন ছাত্রও রয়েছেন। সেখানে মূলত, কমপ্যাক্ট মুওন সোলেনয়েড (সিএমএস) অ্যাটলাস, অ্যালিস এবং এলএইচসিবি– এই চারটি পরীক্ষা নিরীক্ষা নিরন্তর চলছে। এই পরীক্ষাগুলির সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিভাগে ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ব্রেক থ্রু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে। যেখানে অধ্যাপক মাইতি এবং তাঁর ছাত্ররা কমপ্যাক্ট মুওন সোলেনয়েডে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অংশীদার ছিলেন। এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অধ্যাপক মানস মাইতি, তাঁর প্রাক্তন দুই ছাত্র ডঃ সন্দীপ ভৌমিক ও ডঃ তন্ময় সরকার, এবং বর্তমানে পিএইচডি-র শেষ পর্যায়ে থাকা সৌম্যদীপ বর্মনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে সিএমএস ও অ্যাটলাস পরীক্ষা হিগস-বোসন কণা আবিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, যা পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক ভিত্তিগুলির অন্যতম। সেই সময় থেকেই মানসবাবু ও তাঁর সহযোগীরা সার্নের গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাই এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। অথচ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর তুঘলকি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় মানসবাবুকে দিনের পর দিন সাসপেন্ড রাখা হয়েছিল। এমনকী, প্রতিবাদী অধ্যাপককে জব্দ করতে ভারত সরকারের বিজ্ঞান প্রযুক্তি দপ্তরকে সার্নের গবেষণা থেকে তাঁকে প্রাক্তন উপাচার্য সরানোর পরামর্শ দেন বলেও অভিযোগ। তবে আইনি লড়াইয়ে জিতে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে পুনরায় গবেষণায় মন দিয়েছেন মানসবাবু। আর তাতেই মিলেছে স্বীকৃতি। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এই সম্মান নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মকে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় উৎসাহিত করবে। এই আন্তর্জাতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের একত্রিত করে প্রকৃতির গভীর রহস্য উন্মোচনে নিয়োজিত, যা বিশ্বভারতীর মূলমন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। গুরুদেবের স্বপ্ন ছিল বিশ্বভারতী এমন একটি স্থান হবে, যেখানে সমগ্র বিশ্বের জ্ঞান একত্রিত হবে।  অধ্যাপক মানস মাইতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ