Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তীব্র গরম আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে ভেন্ডি চাষিদের কাছে, বেড়েছে উৎপাদন

তীব্র গরমের জেরে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই গরম আশীর্বাদ হয়েছে ভেন্ডি চাষিদের কাছে।

তীব্র গরম আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে ভেন্ডি চাষিদের কাছে, বেড়েছে উৎপাদন
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: তীব্র গরমের জেরে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু এই গরম আশীর্বাদ হয়েছে ভেন্ডি চাষিদের কাছে। জানা গিয়েছে, এই গরমের জেরেই ভেন্ডি চাষের ব্যাপক উৎপাদন বেড়েছে। সেই ভেন্ডি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। ভেন্ডি উৎপাদন ভালো হওয়ায় খুশি মেদিনীপুর সদর ব্লকের নদী তীরবর্তী চাঁদড়া অঞ্চলের একাধিক গ্রামের চাষি। এবছর ভেন্ডির দামও পাচ্ছেন চাষিরা। এক ভেন্ডি চাষির কথায়, গরম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে। ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমি থেকে ১০ কুইন্টাল ভেন্ডি উৎপাদন হয়েছে। এই উৎপাদন বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। জমির গুণমান, সঠিক সার ব্যবহার ছাড়া আবহাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মেদিনীপুর সদর ব্লকের উপরডাঙা এলাকার চাষি বাদল মাহাত বলেন, এই বছর ভেন্ডির চাষ খুবই ভালো হয়েছে। মূলত আবহাওয়া গরম থাকায় ফলন ভালো হয়। ভেন্ডির সাইজও ভালো হয়েছে। এই সাইজের উপরেই ভেন্ডির দাম অনেকটাই নির্ভর করে। এই রাজ্যে তো বটেই, ভিন রাজ্যেও ভেন্ডির চাহিদা রয়েছে। বিক্রি ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছি। একইসঙ্গে ভাটপাড়া এলাকার ভেন্ডি চাষি বলেন, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমনিতেই এই এলাকায় নদী ভাঙনের জন্য ফসলের ক্ষতি হয়। তার মধ্যে ভেন্ডি চাষ ভালো হওয়ায় উপকার হয়েছে। ভেন্ডি মূলত ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার রাজ্যে পাঠানো হয়।

Advertisement

প্রসঙ্গত, শিল্পের পাশাপাশি কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন চাষিরা। অন্যান্য জেলার পাশাপাশি এই জেলাতেও বহু সংখ্যায় চাষি কৃষক বন্ধু, শস্যবিমার সুবিধা পেয়েছেন। এরফলে জেলার কৃষি ব্যবস্থার পরিকাঠামো আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। একইসঙ্গে চাষের পরিমাণও বেড়েছে। 
জানা গিয়েছে, বর্তমানে ধান চাষের পাশাপাশি অন্যান্য চাষের পরিমাণও বাড়ছে। বর্তমানে জেলায় ভেন্ডি, তিল, বাদাম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা। এরফলে তাঁরা আর্থিক ভাবে লাভবানও হচ্ছেন। মেদিনীপুর সদর ব্লক এলাকার এক চাষি বলেন, ভাটপাড়া, এল্যাবনী সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে ভেন্ডি উৎপাদন হয়েছে। এই এলাকার প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে ভেন্ডির চাষ হয়েছে। তবে ঘন ঘন হাতির আক্রমণের জেরে চিন্তায় আছেন চাষিরা। কারণ ইতিমধ্যেই হাতির হানায় চাঁদড়া অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, গত কয়েক বছরে জেলায় চাষের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। চাষিদের পাশে জেলা প্রশাসন সর্বদা থাকবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ