নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মধ্যপ্রদেশের কাফসিরাপ কাণ্ডের জেরে সতর্কতা। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ওষুধের ‘এক্সপায়ারি ডেট’ যাচাই করবার নির্দেশ দিলেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। পাশাপাশি ওষুধগুলির গুণগত মান পরীক্ষার রিপোর্ট ঠিক আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সব মেডিকেল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ এবং সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে তা কার্যকর করতে বলেছেন। বাস্তবে কাজের কাজ কতটা হল, সাতদিনের মধ্যে তার রিপোর্টও চেয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেলায় জেলায় সরবরাহের জন্য রাজ্যে বর্তমানে ২৭টি ডিআরএস বা ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ স্টোর (জেলা এবং স্বাস্থ্য জেলা মিলিয়ে) আছে। জেলা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র—সর্বত্র সেই ডিআরএস থেকে ওষুধ যায়। এদিকে প্রতিটি মেডিকেল কলেজেরও নিজস্ব স্টোর এবং সাবস্টোর আছে। নিজস্ব স্টোর আছে মেডিকেল কলেজ বাদে ডাক্তারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিরও। স্বাস্থ্যদপ্তরের অধীন এসব জায়গার যাবতীয় ওষুধের এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার দিন দেখে নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন সচিব। তিনি সাফ জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের নিজস্ব এসএমআইএস পোর্টালে আপডেট করবার আগে যেন এসব ওষুধ নির্মাতার পেশ করা ওষুধ পরীক্ষার রিপোর্ট এবং নিরপেক্ষ এনএবিএল ল্যাবরেটরির
রিপোর্ট—দুটিই যাচাই করে তবে আপডেট করা হয়।
প্রসঙ্গত, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর ওষুধ ও যন্ত্রপাতি শাখা, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন এবং অডিট অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ভেরিফিকেশনস—এই তিন শাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধ কেনে। বছরে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ওষুধ কেনা হয়। এর মধ্যে ক্যান্সার, থ্যালাসেমিয়া ও বিভিন্ন রক্তের অসুখের কোটি কোটি টাকার দামি ওষুধপত্রও আছে।
দপ্তরের ওষুধ সংক্রান্ত শাখার এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, সচিবের নির্দেশমতো সব মেডিকেল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ এবং সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। আর এসএমআইএস পোর্টাল এখন এমনই করা হয়েছে, ওষুধ কোম্পানি নিজস্ব এবং নিরপেক্ষ এনএবিএল ল্যাবের রিপোর্ট না-থাকলে আপডেটই হবে না।
এদিকে সরকার পড়েছে অন্য সমস্যায়। কাফসিরাপসহ দেশে বিক্রি হওয়া সমস্ত ওষুধের দ্রবণে ডাই ইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি) এবং ইথিলিন গ্লাইকল—দুই ঘাতক ক্ষতিকারক উপাদান সহনমাত্রার বেশি আছে কি না পরীক্ষা করে দেখা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র। রাজ্যগুলিকে অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলেছিল কেন্দ্র। কিন্তু এই দুই উপাদানের সহনমাত্রা পরীক্ষা করার জন্য প্রতিটি নির্মাতা সংস্থ্যাকে প্রায় আধ কোটি টাকা খরচ করে গ্যাস্ট্রো ক্রোমাটোগ্রাফি যন্ত্র বসাতে হবে। নিজেদের ওষুধ পরীক্ষার ল্যাবরেটরিতেও এই যন্ত্র বসাতে হবে রাজ্যগুলিকেও। কোনোটাই এখন চাইলে এখন করা সম্ভব নয়। কিছুদিন সময় লাগবে।