শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: গুরুতর অপরাধের জন্য এফ আই আর হয়েছে। অথবা বিচার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে হওয়া এফ আই আর নিয়ে কোনও খবরই নেই পুলিস কর্তাদের কাছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট পুলিস কর্মী যে ইউনিটে কর্মরত সেখানেও জানানো হয়নি। পুলিসের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থেকে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সার্ভিস বুকেও তোলা হয় নি অভিযোগ। অবসরের সময় গিয়ে সমস্ত কিছু জানা যাচ্ছে। এবার এই নিয়ে নির্দিষ্ট গাইড লাইন তৈরি করল রাজ্য পুলিস। প্রতিটি জেলায় এটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এই নির্দেশ না মানে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর, বিভিন্ন সময় পুলিস কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পেশাগত ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন অনেক পুলিস কর্মীই। অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট পুলিস কর্মী যে এলাকায় থাকেন সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় থানায় এফ আই আর করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন এজেন্সির গ্রেপ্তারের মুখে পড়েছেন বিভিন্ন পদ মর্যাদার পুলিস কর্মীরা। নিয়ম অনুযায়ী কোনো পুলিস কর্মী গ্রেপ্তার হলে তিনি যে ইউনিটে পোস্টিং রয়েছেন সেখানে জানানো বাধ্যতামূলক। এটি মেল করে বা চিঠি পাঠিয়ে জানানো টা নিয়ম। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ধরলেও তাদেরও জানাতে হয়। পুলিস কর্তাদের নজরে এসেছে নিজের ইউনিট বাদে অন্য কোথাও কোনও পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে সেটি জানানো হচ্ছে না। যে কারণে ওই পুলিস কর্মীর বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। lএফ আই আর হওয়ার পরেও বহাল তবিয়তে নিজের জায়গায় ডিউটি করে যাচ্ছেন। তথ্য না থাকায় তাঁর সার্ভিস বুকে বিষয়টি উঠছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠল কর্তাদের কানে আসছে ওই পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে অন্য থানায় অভিযোগ হয়েছে। পুলিস মহলে গুঞ্জন উঠেছে ওই পুলিস কর্মীর এফ আই আর নাম থাকার পরেও কি করে ডিউটি করছেন। এই সমস্যা দূর করতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনো থানায় পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে এফ আই আর হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি তৎক্ষণাৎ জানাতে হবে ওই পুলিস কর্মী যেখানে পোস্টিং রয়েছেন সেখানকার ইউনিট বা ওই জেলার আধিকারিককে। এরপর জেলা বা ওই ইউনিটকে অভিযুক্ত পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ আছে, কোন কোন ধারায় এফ আই আর করা হয়েছে তার বিস্তারিত উল্লেখ করে অর্ডার জারি করতে হবে। একইসঙ্গে এই সংক্রান্ত একটি আলাদা ফাইল তৈরি হবে। ওই পুলিস কর্মী অন্য ইউনিটে বদলি হলে তাঁর সার্ভিস বুকের সঙ্গে ওই ফাইল পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে পুলিস ডিরেক্টরেট থেকে। এই নিয়ম মানা হচ্ছে সেটি দেখার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা বা ইউনিটের শীর্ষ আধিকারিক কে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তিনি সব কিছু পরীক্ষা করবেন।