নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভারতের পশ্চিমপ্রান্তের রাজ্যগুলিতে আত্মগোপন করে থাকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুনরায় বেআইনি পথে বাংলাদেশ ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভারতের পশ্চিমপ্রান্তের রাজ্যগুলিতে আত্মগোপন করে থাকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুনরায় বেআইনি পথে বাংলাদেশ ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
কয়েকদিন আগেই রানাঘাট জেলা পুলিসের হাঁসখালি থানা এক রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার করে ১২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বেআইনি পথে তারা ভারত ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। এরপর বিএসএফ এবং পুলিসের নজর এড়িয়ে পাড়ি দিয়েছিল ভারতের পশ্চিমপ্রান্তের রাজ্যগুলিতে অর্থাৎ মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান, পাঞ্জাবে। যেখানে তারা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবেই কর্মরত ছিল। কিন্তু আচমকা বাংলাদেশ ফেরার জন্য হাঁসখালি পৌঁছতেই তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার রাতে ধানতলা থানা অভিযান চালায় ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া দত্তপুলিয়ার বরণবেড়িয়ায়। সেই অভিযানেও মিলেছে বড়সড় সাফল্য। একধাক্কায় ধানতলা থানার জালে পড়েছে ১৬ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তারা প্রত্যেকেই নড়াইল জেলার বাসিন্দা। এছাড়াও এই ঘটনায় এক দালালকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সে আবার বিহারের মধুবনী জেলার বাসিন্দা। নাম রাম উদাগর কামাত। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, হাঁসখালির মতোই ধৃত এই ১৬ জন কয়েক মাস আগে উত্তর ২৪ পরগনার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। এরপর প্রত্যেকেই পৌঁছে যায় রাজস্থান-গুজরাতের মতো পশ্চিমী রাজ্যগুলিতে। কিন্তু আচমকা আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক ধরে সেই বেআইনি পথেই বাংলাদেশ ফেরার পথে পুলিসের জালে ধরা পড়ে তারা।
কয়েক মাস আগেও যখন বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের প্রবণতাই ছিল সবচেয়ে বেশি, সেখানে আচমকা কেন বহু আগের অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে দেশের ফেরার হিড়িক? যেহেতু তারা প্রত্যেকেই পশ্চিমী রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং বর্তমানে সেখানে সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে ভারত-পাক দ্বৈরথ চলছে সেই কারণেই কি ফেরার পথ ধরছে বাংলাদেশের নাগরিকরা? আপাতত ঘোরাফেরা করছে এই প্রশ্নগুলিই। অনুপ্রবেশকারীদের গ্রেপ্তারি এবং তাদের পশ্চিমী জেলাগুলিতে এতদিন কর্মরত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে পুলিস। যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই ফের ওই অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশমুখী হয়েছিলেন কি না, তার স্পষ্ট উত্তর এখনই দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিস। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট জেলা পুলিসের অতিরিক্ত সুপার (সদর) সিদ্ধার্থ ধাপোলা বলেন, কীভাবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ হচ্ছে এবং কেন তারা ফেরত যাচ্ছে পুরো বিষয়টি নিয়েই আমরা তদন্ত করছি। ভারত পাকিস্তান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণেই তারা পালাচ্ছে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। হতে পারে ওখানে যেহেতু ধরপাকড় হচ্ছে সেই ভয়েও পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। আমরা সামগ্রিক বিষয়টি নিয়েই তদন্ত করছি। • নিজস্ব চিত্র