ওয়াশিংটন: মার্কিন মুলুকে গ্রেপ্তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিক্ষাবিদ অ্যাশলে টেলিস। আমেরিকার প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন নথি হাতানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অ্যাশলের ভার্জিনিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার পাতার বেশি গোপন নথি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার ভিত্তিতে ভার্জিনিয়ার ফেডেরাল কোর্ট ওই শিক্ষাবিদকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়।
আমেরিকা প্রতিরক্ষা বিভাগের কনট্রাক্টর ছিলেন অ্যাশলে। সরকারের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর ১০ বছরের জেল ও আড়াই লক্ষ ডলার জরিমানা হতে পারে। এফবিআইয়ের তদন্তকারীরা হলফনামায় জানিয়েছেন, অ্যাশলের ভার্জিনিয়ার বাড়ি থেকে ‘সিক্রেট’, ‘টপ সিক্রেট’ লেখা বহু নথি পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময় ওই সব গোপন নথির প্রতিলিপি দপ্তর থেকে নিয়ে আসতেন অ্যাশলে। এজন্য সহকর্মীদের থেকেও সাহায্য চাইতেন তিনি। এভাবে বিভিন্ন মার্কিন যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত গোপন নথি হাতে পেয়েছিলেন তিনি। এফবিআইয়ের হাতে বেশ কিছু ভিডিও এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিদেশ ও প্রতিরক্ষা দফতর থেকে ব্রিফকেস হাতে বেরিয়ে আসছেন তিনি। ওই ব্রিফকেসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথিগুলি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এরমধ্যে অ্যাশলের চীনা-যোগও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে চীন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন অভিযুক্ত। সেক্ষেত্রে মার্কিন বিদেশ ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য তিনি বেজিংয়ের আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অ্যাশলের অতীত বেশ আকর্ষক। দক্ষিণ এশিয়ায় বিদেশ নীতি বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞ। কারনেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসে সিনিয়র ফেলো ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডর্জ ডাবলু বুশের আমলে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিওরিটি কাউন্সিলেরও অংশ ছিলেন অ্যাশলে। ২০০১ সালে বিদেশ দফতরে কাজ শুরু করেন। বরাবরই পুলিশি-তল্লাশি থেকে রক্ষাকবচ ছিল তাঁর। তিনি সেই সুবিধারই অপব্যবহার করেছিলেন কি না, তাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।