নয়াদিল্লি: আমেরিকা সবসময় ভুল পক্ষকে সমর্থন করে থাকে। ‘স্যামচাচা’র দেশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অনেক দিনের। ভারতের সঙ্গে যখন শুল্ক নিয়ে চলতি টানাপোড়েনের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি নরম মনোভাব নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই অবস্থায় একটি সংবাদপত্রের ৫৪ বছর আগের ছবি প্রকাশ করে আমেরিকার পাকিস্তান সখ্যের বিষয়টি তুলে ধরল ভারতের সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে সেনার ইস্টার্ন কম্যান্ডের পক্ষ থেকে ১৯৭১ সালের ৫ আগস্টের খবরের কাগজের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ১৯৭১ সালেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। আর সেই সংঘাতে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল আমেরিকা। সরকারিভাবে সে বছর ৩ ডিসেম্বর যুদ্ধ শুরু হয় ভারত ও পাকিস্তানের। অথচ সংবাদপত্রের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, তার অনেক আগে থেকেই যে পাকিস্তান যুদ্ধের সলতে পাকানো শুরু করেছিল। আর তা ভারতীয় সেনার মন্তব্যেই তা আর স্পষ্ট। সংবাদপত্রের ছবি পোস্টের সঙ্গে সেনার তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘৫ আগস্ট, ১৯৭১-এ এই দিনেই যুদ্ধের সূত্রপাত।’
রাজ্যসভায় তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লার জবাবী ভাষণের ভিত্তিতে সংবাদপত্রে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়। সংবাদের শিরোনাম ছিল, ‘১৯৫৪ সাল থেকে ২০০ কোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র পাকিস্তানে ঢুকেছে’। তখন অধুনা বাংলাদেশে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অসন্তোষ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশ এবং রাশিয়ার কাছে অস্ত্র চেয়ে দরবার করেছিল ইসালামাবাদ। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ফ্রান্স সরকার সরাসরি পাকিস্তানকে অস্ত্র দিতে অস্বীকার করে। তবে আমেরিকা অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে গিয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকা এবং চীন ‘নামমাত্র মূল্যে’ পাকিস্তানকে অস্ত্র দিয়েছে। এই দুই দেশ থেকে পাওয়া অস্ত্র ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
তবে সেনার এই পোস্টের দিনক্ষণ নজর কেড়েছে সকলের। ভারতের উত্থান আটকাতে নিত্যনতুন ফরমান ঘোষণা করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে পাল্টা শুল্কহারের হুমকি। এরপর রাশিয়ার থেকে তেল কিনলে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন শর্ত মেনে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। আর রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরে ট্রাম্পের কোপে পড়েছে ভারতও। আপাতত রাশিয়া এবং ভারতকে একই বন্ধনীতে রেখে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। এই অবস্থায় আমেরিকাকে তাদের অতীত মনে করিয়ে দিল সেনা।