তিরুঅনন্তপুরম: অনায়াসেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ জিতলেন হরমনপ্রীত কাউররা। শুক্রবার গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের তৃতীয়টিতে ৪০ বল বাকি থাকতেই জয় এল আট উইকেটে। একইসঙ্গে সিরিজে ৩-০ এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। রবিবার চতুর্থ ম্যাচে ফের মুখোমুখি হবে দু’দল।
চলতি সিরিজে আগাগোড়া ব্যাটিং ডুবিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রকে। প্রথম ম্যাচে ১২১ তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয়টিতে তাদের সংগ্রহ ১২৮। আর এদিন সফরকারী দল সাত উইকেট হারিয়ে থামল ১১২ রানে। ইমেশা ডুলানি (২৭), হাসিনি পেরেরা (২৫), কবিশা দিলহারি (২০), কৌশিনি (১৯)— কেউই বড় রান পাননি। প্রত্যাবর্তনকারী রেণুকা সিং ঠাকুরই ভাঙলেন বিপক্ষকে। ২১ রানে চার উইকেট নিলেন তিনি। ডানহাতি পেসার এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে খেলেননি। এদিন অরুন্ধতী রেড্ডির জায়গায় দলে আসেন। আর এসেই ২৯ বছর বয়সি নিজেকে প্রমাণ করেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ফরম্যাটে আট ম্যাচে ১১ উইকেট হয়ে গেল তাঁর।
অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা ১৮ রানের বিনিময়ে নেন তিনটি উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে অসুস্থতার জন্য খেলতে পারেননি তিনি। এদিন স্নেহ রানার পরিবর্তে এগারোয় আসেন দীপ্তি। এবং নিয়মিত আঘাত হানেন। এই ফরম্যাটে দেড়শো উইকেটের গণ্ডি পেরলেন তিনি। তাঁর পকেটে আপাতত ১৫১ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মেগান স্কুটকে ছুঁয়ে এই ফরম্যাটে যৌথভাবে সর্বাধিক উইকেটশিকারী দীপ্তিই। মেগানের লেগেছিল ১২২ ইনিংস। দীপ্তি সেখানে নিয়েছেন ১২৮টি ইনিংস। এই তালিকায় ভারতীয় অফস্পিনারের এককভাবে শীর্ষে ওঠা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রেনুকা, দীপ্তি ছাড়া ভারতের কোনও বোলার উইকেট পাননি।
১১৩ তাড়া করতে নেমে টিম ইন্ডিয়ার শুরুটা ঝড়ের গতিতে হয়। শেফালি ভার্মা একের পর এক চোখ-ঝলসানো শটে মুগ্ধ করেন ক্রিকেটপ্রেমীদের। ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ইনিংসের পর রীতিমতো ধারাবাহিক তিনি। এদিন মাত্র ২৪ বলে পঞ্চাশে পৌঁছন শেফালি। ভারতীয়দের মধ্যে এরচেয়ে কম বলে হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে রিচা ঘোষ (১৮ বল), স্মৃতি মান্ধানার (২৩ বল)। খোদ শেফালিই এই বছর পঞ্চাশে পৌঁছতে নিয়েছিলেন ২৩ বল। এদিন তার থেকে একবল বেশি লাগল। তবে পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন শেফালি। ৪২ বলে তাঁর সংগ্রহ অপরাজিত ৭৯। তাতে ছিল ১১টি চার ও তিনটি ছক্কা। তবে স্মৃতি এদিনও ব্যর্থ। ছয় বলে মাত্র এক রান করেন তিনি। জেমাইমা রডরিগেজও (৯) ফেরেন দ্রুত। শেফালির সঙ্গে হরমনপ্রীত (অপরাজিত ২১) জিতিয়ে ফেরেন। ১৩.২ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছয় ভারত (১১৫-২)।