বার্মিংহাম: এজবাস্টনে উড়ল তেরঙ্গা। অতীতে এই মাঠে কখনও টেস্ট জেতেনি ভারত। বরং আটটার মধ্যে সাতটা টেস্টেই মুখ চুন হয়েছে লজ্জার পরাজয়ে। ১৯৬৭ থেকে ৫৮ বছরের সেই খরাই কাটল রবিবার। মনসুর আলি খান পতৌদি, অজিত ওয়াদেকর, মহম্মদ আজহারউদ্দিন, মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলিরা অধিনায়ক হিসেবে যে শৃঙ্গ জয় করতে পারেননি, সেখানেই পা রাখলেন শুভমান গিল। ২৫ বছর বয়সির নেতৃত্বে বার্মিংহামের দুর্গ জয় করল ভারত। বিলেতে সোনার অক্ষরে লেখা হল ইতিহাস। ঐতিহাসিক জয় এল ৩৩৭ রানের মস্ত বড় ব্যবধানে। আর সেটাও যশপ্রীত বুমরাহকে ড্রেসিং-রুমে বসিয়ে রাখার বিলাসিতা দেখিয়ে। সিরিজে ১-১ সমতা ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে যা লর্ডস টেস্টের আগে আত্মবিশ্বাসের শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে টিম ইন্ডিয়াকে।
কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে বাজবলের অসহায়তাও প্রকট হল এদিন। চতুর্থ ইনিংসে ৬০৮ রানের টার্গেটের সামনে ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত কেঁদে-কঁকিয়ে তুলল ২৭১। হোম টিমকে কার্যত দুরমুশই করলেন ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া আকাশ দীপরা। তবে জয়ের আসল নায়ক অতি অবশ্যই গিল। টেস্ট ক্যাপ্টেন হিসেবে অভিষেকের পর চারটি ইনিংসের তিনটিতেই সেঞ্চুরি। তার মধ্যে একটি ডাবল। অবিশ্বাস্য ছাড়া আর কী! এজবাস্টনেই তো ২৬৯ রানের পর করলেন ১৬১। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৩০ রান, কোনও টেস্টে আড়াইশোর পর দেড়শোর নজিরবিহীন কৃতিত্ব তাঁরই। এই সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার লক্ষ্যের কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন গিল। এখনই ৫৮৫ রান, এই মেজাজে ব্যাট করলে পাঁচ টেস্টের পর কোথায় পৌঁছবেন তিনি? গাভাসকরের ৭৭৪, এমনকী ব্র্যাডম্যানের ৯৭৪ সুরক্ষিত মনে হচ্ছে না।
কৃতিত্ব প্রাপ্য ঋষভ পন্থেরও। হেডিংলে টেস্টে তাঁর দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি দাম পায়নি। মাঠ ছাড়তে হয়েছিল মাথা নিচু করে। রবিবার অবশ্য তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংই ইংল্যান্ডের মনোবল তুবড়ে দেয়। দুই ইনিংসেই হাফ-সেঞ্চুরি, প্রশংসা প্রাপ্য রবীন্দ্র জাদেজারও। বোলিংয়ে আবার উজাড় করে দিয়েছেন মহম্মদ সিরাজ, আকাশ দীপরা। তাঁদের দাপটে ধরাই পড়ল না বুমরাহর অভাব। সিরাজ প্রথম ইনিংসে নিলেন ছয় উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আকাশের শিকার সংখ্যাও ছয়!
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ, টের পাওয়া গেল না রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অনুপস্থিতি। ওপেনিংয়ে যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে লোকেশ রাহুলের জুটি নির্ভরতা জোগাল। আর চার নম্বরে স্বয়ং গিল তো অনবদ্য। শচীন তেন্ডুলকর, বিরাটের উত্তরসূরি হওয়ার চাপ সামলালেন অনায়াসে। নেতা হিসেবেও ক্রমশ শানিত দেখাচ্ছে। গিলের হাত ধরেই যে নতুন যুগের সূচনার সাক্ষী থাকল এজবাস্টন।