মস্কো: রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে ভারতকে চাপ দিচ্ছে আমেরিকা। এটা ঠিক নয়। ভারত নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে জানে। আদতে যে কোনও দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যের অধিকার রয়েছে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির। নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়ে এবার বিবৃতি মস্কোর। শুধু তা-ই নয়, মঙ্গলবার ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের পাল্টা হুঁশিয়ারি—শুল্ক চাপিয়ে ইতিহাসের মোড় ঘোরাতে পারবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প!
পরশু থেকেই ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। তার আগে সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে ফের শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে কেনা তেল খোলাবাজারে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা লুটছে ভারত। সেই কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। এমনকী, মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের উপর আরও চড়া হারে শুল্ক চাপাব।’ ইতিমধ্যেই এব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নিজেদের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না ভারত। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই বিবৃতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ!
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে এই মুহূর্তে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মার্কিন হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দেয়নি রাশিয়া। তাই মস্কোর উপর চাপ বাড়াতে গত শুক্রবার রাশিয়া থেকে তেল কেনা একগুচ্ছ দেশের (ভারত সহ) উপর শুল্ক বাড়িয়েছে আমেরিকা। সেই সময়ই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ‘জরিমানা’ বসবে। ট্রাম্পের এই কৌশলকে অনৈতিক বলে উল্লেখ করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে বলে ভারতকে হুমকি দিচ্ছে আমেরিকা। এই ধরনের বক্তব্যকে আমরা অবৈধ বলে মনে করি। আমরা বিশ্বাস করি, সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের স্বার্থে যে কোনও দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালানোর অধিকার রয়েছে।’ আমেরিকার এই শুল্ক চাপানোর কৌশলকে আক্রমণ করেছে রুশ বিদেশ মন্ত্রকও। মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বজুড়ে নিজেদের আধিপত্য কমে যেতে দেখেই ওয়াশিংটনের এই নতুন সাম্রাজ্যবাদী অ্যাজেন্ডা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে আর্ন্তজাতিক স্তরে স্বাধীন মতামত রাখা দেশগুলিকে।’ ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোট ব্রিকসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন জারাকোভা। তাঁর সাফ কথা, ‘শুল্ক যুদ্ধ ইতিহাসের মোড় ঘোরাতে পারবে না। আমাদের অনেক সমমনস্ক বন্ধু রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল সাউথ ও ব্রিকস দেশগুলিও।’
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কড়া জবাব দিয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে সরব হয়েছে আমেরিকা ও পশ্চিমের দেশগুলির দ্বিচারিতা নিয়ে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অভিযোগ, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক বেশি অঙ্কের বাণিজ্য করেছে রাশিয়ার সঙ্গে। তারপরেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে ভারতকে!