নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করে সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তাঁর চাপেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ ভারত কমিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তাঁকে খুশি করতেই নরেন্দ্র মোদি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য হল, মোদি জানেন যে, রাশিয়া থেকে ভারত তেল কেনায় আমি খুব অখুশি। আর আমাকে খুশি করা যে জরুরি সেটাও মোদি জানেন। সেই কারণেই কমেছে দিল্লি-মস্কো তেল দোস্তি। ট্রাম্প আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা দিয়ে ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করলেও, পরিসংখ্যান অন্য কথা বলছে। শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রকের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থাৎ বিগত ৬ মাসে ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে। ওই সময়সীমায় মোট আমদানির ৩৫ শতাংশ কেনা হয়েছে রাশিয়া থেকে। ২০২৪ সালের ওই সময়সীমার তুলনায় তা অনেকটাই বেশি। প্রকৃতপক্ষে ভারত যেটা করেছে, সেটি হল, ওই একই সময়সীমায় আমেরিকা থেকে তেল আমদানিও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৪ সালে ওই সময়সীমায় আমেরিকা থেকে ভারত তেল আমদানি করেছে ৭ শতাংশ। সেটি বেড়ে হয়েছে ১৩ শতাংশ। বস্তুত ভারত যাতে আমেরিকা থেকেও তেল কেনে, সেটা নিশ্চিত করাই ছিল ট্রাম্পের লক্ষ্য। রাশিয়া থেকে ভারত তেল আমদানি কমায়নি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাশিয়া থেকে ভারত ৭০ লক্ষ টন তেল আমদানি করেছে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। ৩০০ কোটি ডলারের তেল কেনা হয়েছে মস্কো থেকে। এটাও ঠিক যে, নভেম্বর মাসেই আমেরিকা থেকে ভারতের তেল আমদানি এক ধাক্কায় সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছিল। ১০০ কোটি ডলার। বোঝাই যাচ্ছে, ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য ছিল, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করা নয়। আমেরিকা থেকে কেনা যেন বেড়ে যায়। সোজা কথায়, আমেরিকার তেল বাণিজ্য যেন কমে না যায়।



