Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্মার জলের তলায় সীমান্ত, ভারত-বাংলাদেশ একাকার, অনুপ্রবেশ রুখতে নৌকা ও স্পিড বোটে টহল বিএসএফের

ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত জলের তলায়। কোথাও পদ্মা আবার কোথাও পদ্মার শাখা নদীতে কয়েক মিটার জল বেড়ে যাওয়ায় চর এলাকা ডুবে গিয়েছে।

পদ্মার জলের তলায় সীমান্ত, ভারত-বাংলাদেশ একাকার, অনুপ্রবেশ রুখতে নৌকা ও স্পিড বোটে টহল বিএসএফের
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত জলের তলায়। কোথাও পদ্মা আবার কোথাও পদ্মার শাখা নদীতে কয়েক মিটার জল বেড়ে যাওয়ায় চর এলাকা ডুবে গিয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যবর্তী ভূখণ্ড এখন জলের তলায়। দূর থেকে দেখে সীমান্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না বিএসএফের। উচু কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএসএফ ও পুলিস জলপথে নৌকা ও স্পিড বোট নিয়ে দিনের বেলায় টহল দিচ্ছে।  

Advertisement

বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর থেকে ওপার বাংলার বাসিন্দারা নানাভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। গত কয়েক মাসে মুর্শিদাবাদ দিয়ে অন্তত ৫০ জন অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়েছে। এখন বাংলদেশ লাগোয়া এপারের নদীর চর এলাকাগুলি বানভাসি হওয়ায় দুই দেশের সীমান্ত চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। কোথাও কোমর সমান আবার কোথাও বুক সমান জল। এই জল পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে এ দেশে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে অনুপ্রবেশকারীরা। লালগোলা, সাগরপাড়া, রানিতলা ও জলঙ্গি সীমান্তের বেশ কিছু জায়গা এখন জলের তলায়। প্রতিদিনই এইসব এলাকায় জল বাড়ছে। সীমান্তের চাষের জমি চলে গিয়েছে জলের তলায়। চাষিরা জমিতে যেতে পারছেন না। চর এলাকা জলমগ্ন হওয়ায় রাতের অন্ধকারে যেমন অনুপ্রবেশের সুবিধা তেমনই ভারী বৃষ্টি হলেও সুবিধা হবে ওপার বাংলার বাসিন্দাদের। কারণ, বৃষ্টির জেরে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জলের উপর কচুরিপানা ভাসিয়ে তাতে মাথা লুকিয়ে এপারে চলে আসতে পারে বাংলাদেশিরা। রীতিমতো আশঙ্কায় বিএসএফ। দুষ্কৃতীরাও এই কায়দায় চোরাচালান শুরু করছে সীমান্তে। সেজন্য নৌকা নিয়ে টহল বাড়ানো হয়েছে বলেই জানিয়েছেন জেলার বিএসএফ আধিকারিকরা। 
বছরের অন্যান্য সময় বিএসএফ যে সমস্ত চর এলাকায় নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করে এখন সেসব জায়গায় কোথাও একটুও ভূখণ্ড জেগে নেই। জলের গভীরতা এমন যে সেখানে নামলে ডুবে যেতে হবে। তাই সীমান্তের ধার থেকে উপরে উঠে এসে ভারতের ভুখণ্ডের কিছুটা ভিতরের দিকে ঢুকে এসে পাহারা দিচ্ছে বিএসএফের জওয়ানরা। সেখান থেকে এক নজরে জলের দিকে তাকিয়ে থাকছে তারা। দূরবীন ও নাইট ভিশন বাইনোকুলার দিয়ে নজরদারি চলছে। 
বিএসএফের এক আধিকারিক বলেন, আমরা জলপথে নৌকা করে পেট্রলিং বাড়িয়েছি। প্রতিবার বর্ষার সময় এই সমস্যা হয়। কাঁটাতার না থাকায় ভূখণ্ড জলের তলায় চলে যাওয়ায় সীমান্ত চিহ্নিত করা যায় না।  তবে ওপার থেকে যাতে কেউ এপারে না ঢুকতে পারে সেজন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। 
জলঙ্গি থানার পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পদ্মার শাখা নদীতে সম্প্রতি নৌকা নিয়ে টহল দিয়েছি। প্রতিবছর এই সময় সীমান্ত এলাকায় নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় সমস্ত চর এলাকা ডুবে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের যেমন সমস্যা হয় আমাদেরও নজরদারি বাড়াতে হয়। বিএসএফের পাশাপাশি আমরাও ডুবে যাওয়া চর এলাকাগুলিতে বাড়তি নজর রাখছি। 
জলঙ্গি পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা পদ্মা নদী দিয়ে চর এলাকায় মাঝেমধ্যেই পরিদর্শনে যাচ্ছি। জল এত বেড়েছে যে সেখানে সীমান্ত বোঝা যাচ্ছে না। নদী তীরবর্তী মাঠ ও চাষের জমি সব ভাসিয়ে দিয়েছে। চাষের খুব ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তে পুলিস ও বিএসএফ জলপথে টহল দিচ্ছে। এই সময়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে একটা চিন্তা থাকে। আমরাও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নজরদারি চালাচ্ছি। অপরিচিত কোনও ব্যক্তিকে দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিস প্রশাসনকে জানানো হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ