Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ব পেনশন সূচকে তলানিতে ভারত, পরিষেবায় ঘাটতি, স্বস্তিতে নেই প্রবীণ নাগরিকরা, ‘ডি’ গ্রেডে স্থান মোদি জমানায়

অবসরকালের ‘লাঠি’ হল পেনশন। শেষজীবনের সম্বল, আত্মনির্ভরতা ও আত্মসম্মানের প্রতীক। কিন্তু ভারতে প্রবীণদের সেই ‘লাঠি’ কতটা শক্তপোক্ত? সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ঢাকঢোল পিটিয়ে ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের প্রচারই সার।

বিশ্ব পেনশন সূচকে তলানিতে ভারত, পরিষেবায় ঘাটতি, স্বস্তিতে নেই প্রবীণ নাগরিকরা, ‘ডি’ গ্রেডে স্থান মোদি জমানায়
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অবসরকালের ‘লাঠি’ হল পেনশন। শেষজীবনের সম্বল, আত্মনির্ভরতা ও আত্মসম্মানের প্রতীক। কিন্তু ভারতে প্রবীণদের সেই ‘লাঠি’ কতটা শক্তপোক্ত? সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ঢাকঢোল পিটিয়ে ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের প্রচারই সার। বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও সুখকর নয়। পরিষেবা ও পরিকাঠামোর অন্তঃসারশূন্য অবস্থার ফল ভুগতে হচ্ছে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব পেনশন সূচকে সামনে চলে এসেছে ভারতের পেনশন ব্যবস্থার এই হতশ্রী দশা। নরেন্দ্র মোদি সরকারের জমানায় তলানিতে ভারতের অবস্থান। জুটেছে ‘ডি’ গ্রেড। 

Advertisement

দু’দিন আগেই মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মার্সার সিএফএ ইনস্টিটিউট প্রকাশ করেছে ২০২৫ সালের গ্লোবাল পেনশন ইনডেক্স। বিশ্বজুড়ে ৫২টি অবসরকালীন উপার্জনের ব্যবস্থা নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল তারা। বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ এই সব পেনশন স্কিমের অধীনে। মূলত তিনটি মাপকাঠির মাধ্যমে চালানো হয়েছে সমীক্ষা—অ্যাডিকোয়েসি বা পর্যাপ্ত অঙ্কের পেনশন (৪০ শতাংশ), সাসটেনেবিলিটি বা পেনশনের স্থিতিশীলতা (৩৫ শতাংশ) ও ইন্টিগ্রিটি বা গ্রহণযোগ্যতা (২৫ শতাংশ)। এই তিন মাপকাঠিতে যাচাইয়ের পর ৪৩.৮ পয়েন্ট পেয়ে ‘ডি’ গ্রেডে ঠাঁই হয়েছে ভারতের। বিশ্বব্যাপী গড় স্কোর সেখানে ৬৪.৫।
প্রাপ্ত পয়েন্টের নিরিখে চলতি বছরে শীর্ষে রয়েছে দ্য নেদারল্যান্ডস (৮৫.৪), আইসল্যান্ড (৮৪), ডেনমার্ক (৮২.৩), সিঙ্গাপুর (৮০.৮) ও ইজরায়েলের (৮০.৩) মতো দেশগুলি। মূলত শক্তপোক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি পেনশন ব্যবস্থার সুফল হিসেবে প্রত্যেকেই ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। তুল্যমূল্য বিচারে মোদির ভারতের অবস্থা খুবই করুণ। নেপথ্যে এদেশের বহুধা বিভক্ত পেনশন প্রকল্প ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ সুযোগ। পেনশন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতায় দেশের অধিকাংশ নাগরিকের অবসরকালীন সুরক্ষা থেকে যাচ্ছে সেই তিমিরেই।
রিপোর্ট বলছে, ‘অ্যাডিকোয়েসি’র মাপকাঠিতে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ভারত। ৩৪.৭ পয়েন্ট পেয়ে জুটেছে ‘ই’ গ্রেড। এর অর্থ, অবসরকালে ভারতে প্রবীণ নাগরিকদের বিকল্প উপার্জনের পরিমাণ অত্যন্ত কম। সামাজিক সহায়তার সুযোগও সীমাবদ্ধ। ‘সাসটেনেবিলিটি’তে ভারতের স্কোর ৪৩.৮ (‘ডি’ গ্রেড)। অর্থাৎ, দেশের প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও পেনশন স্কিমের দীর্ঘমেয়াদি সুফল তাঁদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। আবার অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের পেনশন প্রকল্পে অংশগ্রহণ কম ও তাঁদের সঞ্চয়ের পরিমাণও নামমাত্র। তবে ‘ইন্টিগ্রিটি’র মাপকাঠিতে ভারত কিছুটা হলেও ভালো ফল করেছে। ৫৮.৪ পয়েন্ট পেয়ে জুটেছে ‘সি’ গ্রেড। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের এই খারাপ র‌্যাঙ্কিংই বলে দিচ্ছে পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ