নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাল, গমে স্বয়ম্ভর হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের চিন্তা বাড়াচ্ছে ডাল। সরকারি রিপোর্ট থেকেই পরিষ্কার, ডাল উৎপাদন বাড়লেও চাহিদা মেটাতে আগামী দিনেও বিদেশ থেকে ডাল আমদানি অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যবিনেট সেক্রেটারিয়েটে দেশের খাদ্যসামগ্রীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের নথি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর একই হারে আফ্রিকার দু’টি দেশ (মোজাম্বিক ও মালাইউ) এবং মায়ানমার থেকে
ডাল আমদানি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্য কোনও দেশ থেকে আরও ১ লক্ষ টন ডাল আমদানি করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশ থেকে ডাল আমদানি প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০২১-২২ আর্থিক বছরে ২৬ লক্ষ ৯৯ হাজার টন ডাল আমদানি করা হয়েছিল। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে তা বেড়ে হয় ৪৭ লক্ষ ৩৮ হাজার টন। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ডাল আমদানি ৭০ লক্ষ টন ছাড়িয়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ এবং মায়ানমার ছাড়াও কানাডা, রাশিয়া সহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে ভারতে ডাল আমদানি করা হয়। দেশে ডালের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ প্রকল্প নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ যেসব রাজ্যে ডাল উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেখানেও চাষ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন আগের তুলনায় বাড়লেও তা বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়। ডাল জাতীয় খাদ্যশস্য প্রোটিনের বড় উৎস। তাই দেশের মানুষের খাদ্যে পুষ্টির সরবরাহ ঠিক রাখতে বিদেশি মুদ্রা খরচ করে প্রচুর পরিমাণে ডাল আমদানি করা হচ্ছে। এই কারণে বাজারে ডালের দামও মোটামুটি স্থিতিশীল আছে বলে কেন্দ্রের ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটে পর্যালোচনা বৈঠকের রিপোর্টে বলা হয়েছে। দেশের চাষিরা যাতে লাভজনক দাম পেয়ে ডাল চাষে উৎসাহিত হন, তার জন্য নাফেড সহ সরকারি সংস্থাগুলিকে চাষিদের কাছ থেকে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যে (এমএসপি) ডাল কেনার উপর জোর দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্টে কৃষি মন্ত্রকের রিপোর্ট উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অনেক জায়গায় ভুট্টার মতো অর্থকরী ফসলে বেশি আয় হওয়ার জন্য চাষিদের একটা অংশ ডালের বদলে ওই শস্য চাষ করছেন। তবে বেশি পরিমাণে ফলন হওয়ার জন্য এবার ভুট্টার দাম পড়ে গিয়েছিল। তা হলেও ডালের দাম যাতে খুব কমে না যায়, তার জন্য সরকারি সংস্থাগুলিকে এই খাদ্যশস্য কেনার উপর জোর দিতে হবে।