সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: আজ, রবিবার রামনবমীর সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ড থেকে বহিরাগতরা এসে এরাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অশান্তি পাকাতে পারে। এমনই আশঙ্কায় বীরভূম, আসানসোল সহ রাজ্যের বিভিন্ন সীমানায় বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে পুলিস। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স। পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। জেলাগুলিতে এবার গতবারের থেকে বেশি র্যালি বের হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দু’দলের পক্ষ থেকেই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের রামনবমী কার দখলে থাকবে তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আউশগ্রাম, বর্ধমান, কাটোয়া, কালনা সহ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভাযাত্রা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য জায়গাতেও শাসকদলের নেতারা প্রথম সারিতে থাকবেন। অন্যদিকে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বর্ধমান শহরে এসে সুর চড়িয়ে গিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের স্বস্তিপল্লিতে বাসন্তী পুজোর অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শোভাযাত্রায় তাঁরা যোগ দেবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ শোভাযাত্রা তৃণমূলের নেতারা ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা করলেও তারাও ময়দানে থাকবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দলের নেতারা শোভাযাত্রায় শামিল হলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাইরে থেকে লোকজন এসে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করলে পরিবেশ অশান্ত হতে পারে। কয়েক বছর আগে আসানসোল এবং রানিগঞ্জে বহিরাগতরা এসে অশান্তি পাকিয়েছিল। সেই তথ্য পুলিসের হাতে থাকায় এবছর আগাম তারা সতর্ক রয়েছে।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, প্রতিটি সীমানা এলাকাতেই নাকা চেকিং করা হচ্ছে। বাইক বা চারচাকা গাড়ির সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাতের দিকেও জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একসঙ্গে চার-পাঁচজন বাইক নিয়ে এরাজ্যে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের জেরা করা হয়। শুধু আসানসোল বা বীরভূম নয়, ঝাড়খণ্ডের অন্যান্য সীমানা এলাকায় একইরকম তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি বিভাজন তৈরি করে অশান্তি পাকানোর ছক করছে। ওদের নেতারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েই চলেছেন। ধর্মীয় উৎসবকে নিয়ে ওরা রাজনীতি করতে চাইছে। রাজ্যে শান্তির পরিবেশ বজায় রয়েছে। সেটা তারা মেনে নিতে পারছে না।
বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, আমরা বহু বছর ধরেই রামনবমী পালন করে আসছি। তৃণমূল নেতারা রাজনীতির জন্য এখন রামনবমীর শোভাযাত্রায় শামিল হচ্ছেন। ওরাই উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছে। মানুষ প্রতিহত করবে।