Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই দিনাজপুরে অমিল ১০, ২০, ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার, বাড়ছে ক্ষোভ

বাইরের জেলা থেকে স্ট্যাম্প এনে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

দুই দিনাজপুরে অমিল ১০, ২০, ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার, বাড়ছে ক্ষোভ
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ: দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালত এবং উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ জেলা আদালত চত্বরে অমিল ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প পেপার। বাইরের জেলা থেকে স্ট্যাম্প এনে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প পেপার নেই গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালত চত্বরের সরকারি ভেন্ডরদের কাছে। আদালত চত্বরে দুজন ভেন্ডর থাকলেও তাঁরা অনিয়মিত আসেন বলে অভিযোগ। চাহিদা মতো স্ট্যাম্প পেপার না মেলায় সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। 
মহকুমা আদালতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ টি এফিডেভিট হয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আকাল থাকায় বাইরের জেলা থেকে স্টাম্প পেপার এনে কাজ করতে হচ্ছে আইনজীবীদের। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালত চত্বরে স্ট্যাম্প পেপারের কালোবাজারি চলছে। ১০, ২০ ও ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। 
গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রঞ্জন মিত্রর প্রশ্ন, আমাদের আদালত চত্বরের ভেন্ডরদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প পেপার যাচ্ছে কোথায়? এর সঙ্গে বড় চক্র জড়িত রয়েছে বলে দাবি তাঁর।  আদালত চত্বরে স্ট্যাম্প পেপারের কালোবাজারি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। 
আদালতের স্ট্যাম্প ভেন্ডর চঞ্চল সাহা বলেন, আমরা জেলা থেকে ১০, ২০, ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার পাই না।  যা পাই তাই বিক্রি করি। কেন  পাওয়া যাচ্ছে না এর উত্তর জেলা প্রশাসন জানে। ফোন না তোলায় এবিষয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসক অভিষেক শুক্লা।
রায়গঞ্জ জেলা আদালত চত্বরেও ১০, ২০ ও ৫০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার না মেলায় চরম সমস্যায় সাধারণ মানুষ। পর্যাপ্ত স্ট্যাম্প পেপার না থাকায় কালোবাজারির আশঙ্কা করছে উত্তর দিনাজপুর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন। 
অভিযোগ, ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার পর্যাপ্ত না থাকায় বাধ্য হয়ে মানুষ একশো টাকার স্ট্যাম্প পেপার কিনছেন। অনেক সময় স্ট্যাম্প পেপারের অভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে আদালত কর্মীদের। তিনমাস ধরে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে আদালত কর্মীরা জানান। 
রায়গঞ্জ জেলা আদালতের স্ট্যাম্প পেপার ভেন্ডর তন্দ্রা বিশ্বাস সরকার বলেন, আমরা ১০ টাকা ও ২০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার চেয়েও পাচ্ছি না। এই দামের স্ট্যাম্প পেপারের চাহিদা বেশি থাকে। আমরা বাধ্য হয়ে অন্যান্য দামের স্ট্যাম্প  পেপার বিক্রি করছি। 
এবিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সায়ন চৌধুরী বলেন, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। সব মূল্যের স্ট্যাম্প পেপার না থাকায় বাড়তি দাম দিয়ে অনেকে স্ট্যাম্প পেপার কিনছেন।
এবিষয়ে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মীনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে কোনও উত্তর দিতে চাননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ