


সদ্য মুক্তি পেয়েছে ‘চড়ক: ফেয়ার অব ফেথ’। সে ছবির জার্নি ভাগ করে নিলেন অভিনেতা সুব্রত দত্ত।
এই ছবির প্রতিপাদ্য বিষয় কি কুসংস্কার?
বিশ্বাস, ভক্তি, শ্রদ্ধার উপর কোনো প্রশ্ন তুলছে না এই ছবি। কিন্তু অন্ধবিশ্বাস, সেটা ধর্ম হোক বা রাজনীতি, সামাজিক রীতি বা ব্যক্তিগত পরিসর, এগুলোর অন্ধ আনুগত্যই এই ছবির বিষয়।
আপনার ভূমিকা কি যুক্তিবাদের পক্ষে?
ছবিতে আমার চরিত্রের
নাম বিকাশ। গোটা ছবিতে বিকাশই একমাত্র চরিত্র
যে অন্ধবিশ্বাসী নয়। বরং
সে অন্ধ বিশ্বাস, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।
আপনি তো বাঁকুড়ার ভূমিপুত্র। চড়ক সংক্রান্তি, গাজনের মেলার স্মৃতি নিশ্চয়ই অমলিন হয়নি?
আমি বাঁকুড়ায় জন্মেছি, বড়ো হয়েছি। চড়ক সংক্রান্তিতে বিশাল মেলা হয়। শরীরে কাঁটা বিঁধিয়ে উঁচু খুঁটি থেকে ঝুলে কীভাবে বনবন করে ঘোরে, জিভের মধ্যে লোহার রড ঢুকিয়ে মানত করে, আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যায়...। এগুলো ছোটোবেলায় নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেখতাম আর ভাবতাম, কেমন করে এটা সম্ভব! মনে হত এটাও এক ধরনের এনার্জি। পরে বুঝতে পারলাম এটা অন্ধ বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
ছবিটা বাংলা ভাষাতে হতে পারত না?
ছবিটা হিন্দিতে হলেও প্রচুর সংলাপ আছে বাংলা অ্যাকসেন্টে। ঝাড়খণ্ড, পুরুলিয়ার যে অঞ্চলটা ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে সেখানকার মানুষ হিন্দি জানেন, কিন্তু বলেন বাংলা অ্যাকসেন্টে। ছবিটা ঠিক হিন্দিতেও নয়, আবার পুরোপুরি স্থানীয় উপভাষাতেও নয়। তাছাড়া ব্যবসার দিকটা দেখতে গেলে হিন্দির মতো বড়ো ক্যানভাসটাও দরকার। সবচেয়ে বড়ো কথা ছবির বক্তব্য, প্রশ্নগুলো সবার কাছে পৌঁছতে গেলে হিন্দিটা জরুরি।
এই ধরনের ছবি সমাজকে সচেতন করে তুলতে পারে?
কিছু প্রশ্ন তো তৈরি হয়...।
বাংলায় দর্শকের অভাবে সাময়িকভাবে হল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা, এই দুর্দিন কেন?
কনটেন্ট নিয়ে ভাবতে হবে। তার উপর সংস্কৃতির মধ্যে রাজনীতি ঢুকে গেলে মুশকিল। বিষয়টা অনেকটা স্বামী-স্ত্রীর মতো। আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকলে খুব ভালো। না থাকলে ডিভোর্সের পরিস্থিতি। এখন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে অসুখী দাম্পত্যের দশা চলছে।
প্রিয়ব্রত দত্ত