Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিলিগুড়িতে গবাদি পশুর ভ্যাকসিনের সঠিক তথ্য আপলোড হচ্ছে না পোর্টালে  প্রতারণার আশঙ্কায় ওটিপি অমিল, বেকায়দায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর

ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি অমিল! তাই শিলিগুড়িতে গবাদি পশুর টিকাকরণের সঠিক তথ্য আপলোড হচ্ছে না সরকারি পোর্টালে

শিলিগুড়িতে গবাদি পশুর ভ্যাকসিনের সঠিক তথ্য আপলোড হচ্ছে না পোর্টালে  প্রতারণার আশঙ্কায় ওটিপি অমিল, বেকায়দায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর
  • ৩০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি অমিল! তাই শিলিগুড়িতে গবাদি পশুর টিকাকরণের সঠিক তথ্য আপলোড হচ্ছে না সরকারি পোর্টালে। প্রশাসন সূত্রের খবর, আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কায় ওটিপি শেয়ার করছেন না গবাদি পশুর মালিকরা। যার ফলে টিকাকরণ হওয়ার পরও প্রচুর গবাদি পশু সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালে তোলা সম্ভব হয়নি। এনিয়ে বেকায়দায় পড়েছে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর। তাদের আশঙ্কা, গ্রামবাসীদের এমন অসহযোগিতায় ভবিষ্যতে টিকাকরণের ডোজের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে সরকার। 

Advertisement

প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের শিলিগুড়ির উপ অধিকর্তা তুফান মাইতি বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুসারে গৃহপালিত গোরু, ছাগল ও শূকরের টিকাকরণের পর পোর্টালে তথ্য আপলোড করতে হয়। এই কাজ ওটিপির মাধ্যমেই হয়। এতে ভয়ের কিছু নেই। আর এই কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রাণীমিত্র, প্রাণীবন্ধু ও প্রাণীসেবীরা স্থানীয় বাসিন্দা। সুষ্ঠুমতো টিকাকরণ কর্মসূচি চালাতে সকলে তাঁদের সহযোগিতা কারুন। এই আবেদন নিয়ে গ্রামে গ্রামে প্রচার চালানো হচ্ছে। 
রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে গৃহপালিত প্রাণীদের সুরক্ষিত রাখতে শিলিগুড়িতে নিয়মিত টিকাকরণ কর্মসূচি চলছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, ব্রুসেলোসিস, লাম্পিং স্কিন ডিজিজ প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধে গোরু, গোট পক্সের জন্য ছাগল এবং সোয়ান ফিভারের জন্য শূকরের প্রতিষেধক প্রদান করা হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে এই কাজ করেন প্রাণীবন্ধু, প্রাণীমিত্র ও প্রাণীসেবীরা। তাঁরা নিয়মিত গবাদি পশুর টিকাকরণ করলেও তা পোর্টালে আপলোড হচ্ছে না। 
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মহকুমার মাটিগাড়া, খড়িবাড়ি, নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া ব্লকে লাম্পিং স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে ৯১ হাজার ৪০০ গোরুর ভ্যাকসিন করা হয়েছে। কিন্তু পোর্টালে মাত্র ৬০ হাজার ২০০টি গোরুর তথ্য আপলোড হয়েছে। এখনও ৩১ হাজার ২০০টি গোরুর তথ্য অমিল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজের (চতুর্থবার) জন্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার গোরুর টিকাকরণ করা হয়। যারমধ্যে পোর্টালে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৮০ হাজার ৮০০টি গোরুর তথ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পঞ্চমবার ওই ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। সেই সময় ১ লক্ষ ২৫ হাজার গোরুর টিকাকরণ করা হলেও পোর্টালে তথ্য উঠেছে মাত্র ৭৮ হাজার ৭০০ গোরুর। 
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির সময় গবাদি পশু পালকদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর নেওয়া হয়। পোর্টালে তথ্য আপলোড করার জন্য ওই বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ওটিপি যায়। আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা করে তা তাঁরা দিতে চাইছেন না। যার ফলে, বাস্তবের সঙ্গে পোর্টালের তথ্যে অমিল থাকছে। এরফলে আগামীতে সরকার ভ্যাকসিনের ডোজের সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। এই সমস্যা দূর করতে প্রচার অভিযানে নামা হয়েছে।           

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ