নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বাড়ির কাছে এবং পছন্দের স্কুলে বদলি নিয়ে দৌড়ঝাঁপের শেষ নেই। জেলা বিদ্যালয় সংসদ থেকে রাজ্য, পছন্দের স্কুল পেতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের লাইন অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে কিংবা সুপারিশের জোরে পছন্দের স্কুলে বদলি পেয়েও যাচ্ছেন। এরফলে শহরাঞ্চলের স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা উপচে পড়লেও গ্রামীণ এলাকার স্কুলে সংকট তৈরি হচ্ছে। গত ৭নভেম্বর স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব প্রত্যেক জেলায় বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) এবং জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, সারা রাজ্যে ২৩হাজার ১৪৫জন উদ্বৃত্ত শিক্ষক রয়েছেন। অর্থাৎ পড়ুয়ার অনুপাতের তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকা বেশি আছেন। পাশাপাশি এই চিঠিতে এও বলা হয়েছে, সারা রাজ্যে ২৩হাজার ৯৬২টি স্কুলে পড়ুয়া অনুপাতে শিক্ষক কম। অর্থাৎ পড়ুয়া বেশি থাকলেও শিক্ষক আছেন একজন কিংবা দু’জন। গ্রামীণ এলাকার বেশিরভাগ স্কুলে এই সংকট দেখা গিয়েছে। অবিলম্বে উদ্বৃত্ত স্কুল থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তুলে ঘাটতি থাকা স্কুলে বদলি করতে হবে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৩২৬৫টি প্রাইমারি স্কুলে ১১হাজার ৫৯৪জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। এছাড়া, আরও ৮৫৩জন প্যারাটিচার আছেন। মোট পড়ুয়া সংখ্যা ২লক্ষ ৭৮হাজার ১১জন। শিক্ষার আইন(রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট) অনুযায়ী এই জেলায় মোট ১০হাজার ৯১০জন শিক্ষক শিক্ষিকা প্রয়োজন। এই জেলায় ১৩২২টি স্কুলে প্রয়োজনের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। তমলুক, হলদিয়া, কাঁথি প্রভৃতি শহরাঞ্চলের স্কুলে শিক্ষকদের ভিড় থাকলেও উল্টো চিত্র গ্রামীণ এলাকায়। জেলায় মোট ৫৮৬টি স্কুল শিক্ষক সংকটে ভুগছে। অর্থাৎ, শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী প্রায় ৬০০টি স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই।
তবে অবাক করার বিষয় হল, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৮২টি প্রাথমিক স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন। প্রি-প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি ক্লাস। অথচ, শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র এক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এধরনের স্কুলে সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে একটি ঘরে বসিয়ে পড়ানো হচ্ছে। কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে একজন করে শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। তবে, এগরার এক শিক্ষিকার বদলি সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্ট পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে অবৈধ ঘোষণার পর ‘লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ প্রক্রিয়া থমকে যায়। এই জেলায় স্থানীয়ভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি প্রক্রিয়া জোর ধাক্কা খায়। তবে, ৭নভেম্বর উদ্বৃত্ত স্কুল থেকে শিক্ষক তুলে ঘাটতি থাকা স্কুলে বদলির নির্দেশিকা আসার পর ফের তৎপর হতে চলেছে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। ঘাটতি থাকা স্কুলে শিক্ষকদের বদলির কাজ ফের শুরু হতে চলেছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, জেলায় ১৩০টি প্রাথমিক স্কুল সিঙ্গল টিচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা এরকম ৪৮টি স্কুলে আরও একজন শিক্ষক স্থায়ীভাবে দিয়েছি। আরও ৮২টি স্কুলে একজন শিক্ষক আছেন। তবে, এরকম অধিকাংশ স্কুলে লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে একজন করে দেওয়া আছে। সেই শিক্ষকরা চাইলে ওই স্কুলে স্থায়ীভাবে নিযুক্ত হতে পারবেন। উদ্বৃত্ত এবং ঘাটতি থাকা শিক্ষকদের তালিকা নিয়ে একটি নির্দেশিকা এসেছে। সেইমতো পদক্ষেপ করা হবে। নিজস্ব চিত্র