Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একশো দিনের কাজ বন্ধের অভিঘাত, সুদখোরদের অত্যাচার ভিটেহারা হচ্ছেন বাসিন্দারা

‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম’ বা একশো দিনের কাজ চালুর উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।

একশো দিনের কাজ বন্ধের অভিঘাত, সুদখোরদের অত্যাচার ভিটেহারা হচ্ছেন বাসিন্দারা
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম’ বা একশো দিনের কাজ চালুর উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। গরিব মানুষের হাতে টাকা আসবে। তাঁরা কেনাকাটা করবে। সার্বিকভাবে অর্থনীতির উন্নয়ন করবে। কিন্তু ঘটনা হল, ২০২১ সালে বাংলায় বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ার পরই এই প্রকল্পে টাকা পাঠানো বন্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিকভাবে ধাক্কা লাগে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। প্রশাসনিক রিপোর্টেও সেই তথ্য উঠে এসেছে। 

Advertisement

একশো দিনের কাজ করে সংসার চালাতেন গ্রামের বহু  মানুষ। এখন সেই পথ বন্ধ। তাঁদের অনেককেই খেয়ে-পরে বাঁচতে মহাজন বা সুদ কারবারিদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন মহাজনরা। তাঁরা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুদে টাকা ধার দিচ্ছেন। সময়ে শোধ দিতে না পারলে আসল টাকার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ। সুদ সহ সেই টাকা আদায়ে তাঁদের উপর ঋণ গ্রহীতার উপর নেমে আসছে নারকীয় অত্যাচার। এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। যেমন, ঋণের কিস্তির টাকা বাবা শোধ না দিতে পারার খেসারত দিতে হয়েছিল এক নাবালককে। ১৯ এপ্রিলের ঘটনা। সুদ কারবারি বিজেপি নেতা ওই নাবালকের উপর গরম দুধ ছিটিয়ে দিয়েছিল। তার বাবা বলেন, ‘অমিত মাকড় নামে ওই বিজেপি নেতা ১৫ শতাংশ হারে টাকা ধার দিয়েছিল। কিস্তি দিতে দেরি করার জন্যই সে ছেলের গায়ে গরম দুধ ঢেলে দেয়। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ হওয়ার পর আমার মতো অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছে। বাধ্য হয়ে মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিতে হচ্ছে।’
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কিস্তির টাকা দিতে না পারায় এক সুদ কারবারি মেমারির সাতগেছিয়া এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ি জোর করে লিখিয়ে নিয়েছে। ওই ব্যক্তির বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, মা রয়েছেন। সুদ কারবারি বাড়ি লিখিয়ে নেওয়ায় ওই ব্যক্তি বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর বলেন, ‘এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারই দায়ী। ১০০ দিনের কাজ চালু থাকলে আমজনতাকে এভাবে মহাজনদের কাছে যেতে হতো না। তারা ঝোপ বুঝে কোপ মারছে। ইচ্ছে খুশি সুদে টাকা ধার দিচ্ছে। কোনও উপায় না থাকায় গরিব পরিবারগুলি তা নিতে বাধ্য হচ্ছে। শোধ দিতে দেরি হলেই তাদের উপর মধ্যযুগীয় অত্যাচার করা হচ্ছে।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানে ১০০ দিনের কাজে ১০ কোটির বেশি টাকা বকেয়া। কাজ করার পরও শ্রমিকরা তাঁদের পারিশ্রমিক পাননি। এই জেলায় একাধিকবার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল এসেছিল। তারা দুটি পঞ্চায়েতে অনিয়ম খুঁজে পায়। জেলাপ্রশাসনকে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়। সেই নির্দেশ কার্যকরও করা হয়। কিন্তু তারপরও বকেয়া টাকা পাঠানো হয়নি। এই কাজ রাজ্যে আদৌও শুরু হবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা না পাঠানোয় এরাজ্যের গরিব পরিবারগুলির নাভিশ্বাস উঠছে। তাঁদের অনেকেই ঋণের জালে জড়িয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন। মহাজনদের রমরমা বেড়ে গিয়েছে বলেও জেলার বাসিন্দাদের দাবি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ