Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের নির্দেশিকাকে থোড়াই কেয়ার, পাম্পে তেল ভরতে ভাড়া খাটছে হেলমেট

দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে লাগাম টানতে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’ কর্মসূচি চালু করেছে বাঁকুড়া পুলিস

পুলিসের নির্দেশিকাকে থোড়াই কেয়ার, পাম্পে তেল ভরতে ভাড়া খাটছে হেলমেট
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে লাগাম টানতে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’ কর্মসূচি চালু করেছে বাঁকুড়া পুলিস। হেলমেট না পরার কারণেই বাইক দুর্ঘটনায় সিংহভাগ আরোহীর মৃত্যু হয় বলে পুলিস জানিয়েছে। সেই কারণে বিনা হেলমেটের বাইক চালককে পেট্রল না দেওয়ার ব্যাপারে মালিকদের নির্দেশ দিয়েছিল বাঁকুড়া জেলা পুলিস। কিন্তু, তেল বিক্রি বজায় রাখতে এবার পুলিসকেই কার্যত ‘টুপি’ পরাচ্ছেন পেট্রল পাম্প মালিকরা। পুলিসকে থোড়াই কেয়ার করে পাম্পে পাম্পে দেদার হেলমেট ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বাইক চালকদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে নিয়ে হেলমেট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাইকে তেল ভরার পর ফের তা ফেরত নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি বাঁকুড়া জেলা পুলিসের কর্তাদের নজরেও পড়েছে। এব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিস আধিকারিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’ কর্মসূচি চালুর জন্য আমরা জেলার পেট্রল পাম্প মালিকদের নিয়ে বৈঠক করি। পরে পাম্পে পাম্পে ব্যানার লাগিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারও চলে। তারপরেও কেউ নির্দেশ না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, পেট্রল পাম্পে মালিকরা দু’-তিনটি করে হেলমেট রেখে দিচ্ছেন। বিনা হেলমেটের বাইক চালকদের তা পরিয়ে পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে। পাম্পের সিসি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে বের হওয়ার পর ওই হেলমেট খুলে কর্মীদের হাতে বাইক চালকরা ধরিয়ে দিচ্ছেন। তারজন্য পেট্রল পাম্প কর্মীদের কেউ কেউ আবার টাকা নিচ্ছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। নজরদারি বাড়ানোর জন্য থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাম্প মালিক বলেন, শহর বা গ্রামীণ এলাকায় এক পাড়া থেকে অন্য পাড়া যাওয়ার সময় সিংহভাগ বাইক চালক হেলমেট পরেন না। তাঁরাও আমাদের কাছ থেকে জ্বালানি তেল কিনে থাকেন। আমরাও এতদিন হেলমেট ছাড়াই বাইক চালকদের তেল দিতাম। তবে পুলিস কড়াকড়ি করার পর তা আর দেওয়া হয় না। পাম্পে কর্মীদের হেলমেট থাকে। তা তাঁরা কোনও পরিচিতকে দিয়ে থাকতে পারেন। তবে হেলমেট ভাড়া খাটানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলব।  
উল্লেখ্য, হেলমেট বিহীন বাইক আরোহীদের নিয়ে উদ্বেগ দিনদিন বেড়ে চলেছে। পথ দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ বাইক আরোহীই মাথায় চোট পাওয়ার কারণে মারা যান। মাথায় হেলমেট থাকলে অনেকাংশেই বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাপক ধরপাকড়, জরিমানা আরোপ করার পরেও অনেকে হেলমেট পরছে না। তাদের জন্য বাঁকুড়া জেলা পুলিসের তরফে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রল’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলা প্রায় ১০০ পেট্রল পাম্প রয়েছে। ওইসব পাম্পে পেট্রল, ডিজেল ভরার জন্য প্রতিদিন শয়ে শয়ে যানবাহন ভিড় করে। বাইক চালকদের অনেকেরই পেট্রল ভরার সময় মাথায় হেলমেট থাকে না। জেলার গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, সোনামুখীর মতো পুর শহরেও একই চিত্র চোখে পড়ে। রাজ্য ও জাতীয় সড়ক সংলগ্ন পাম্পগুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। পাম্প কর্মীরা হেলমেট ভাড়ায় খাটানোর ছক কষার ফলে পুলিসের উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ