নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিপা দমনে বাংলার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং স্বাস্থ্য গবেষণা দপ্তরের কেন্দ্রীয় সচিব ডাঃ রাজীব ভাল। রোগ দমনে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় নিয়েও উচ্ছ্বসিত তিনি। ওআরএস-এর আবিষ্কর্তা প্রয়াত দিকপাল বাঙালি চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ দিলীপ মহলানবিশের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শনিবার শহরে এসেছিলেন তিনি।
এদিন সকালে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আইসিএমআর-এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনস-এ (এনআইআরবিআই, পূর্বতন নাইসেড) কখনও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথায়, কখনও নিজের ভাষণের ছত্রে ছত্রে বাংলার প্রশংসা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। দরাজ কণ্ঠে প্রয়াত বাঙালি বিজ্ঞানীর গবেষণা ও কাজের প্রশংসা করেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নিপা প্রসঙ্গও উঠে আসে। বলেন, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর সঠিক সময়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। সে কারণে রোগটি ছড়াতে পারেনি। ‘কনট্যাক্ট ট্রেসিং’ করা হয়েছে প্রত্যেকের।
তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাদুড়ের মধ্যে এই ভাইরাস মিলেছে। তাই আত্মসন্তুষ্টির কোনও জায়গা নেই। বারাসতে সদ্য মৃত তরুণী নার্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে ওই মহিলা নার্সের ব্রেন ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি অবশ্য নিপা নেগেটিভ হন। প্রয়াত বিজ্ঞানী ডাঃ মহলানবিশ সম্পর্কে এদিন আইসিএমআর-এর ডিজি ছাড়াও স্মৃতিচারণ করেন প্রাক্তন এডিজি ডাঃ সমীরণ পান্ডা।
এদিন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স নিয়ে সতর্ক করেন আইসিএমআর শীর্ষকর্তা। বলেন, বহু মারণ ব্যাকটেরিয়াকে আর কাবু করতে পারছে না অ্যান্টিবায়োটিক। দেশজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি আমরা। ব্যাকটেরিয়ার কালচার রিপোর্ট আসার আগেই চিকিৎসকদের অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার ব্যাপারে আইসিএমআর নতুন নীতি আনতে পারে বলে এদিন ডাঃ ভালের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে।