Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে ছবি করব না’

কবি নাকি আবৃত্তিকার কার কণ্ঠে কবিতা বেশি প্রাণ পায়? কবির কণ্ঠে। কারণ পুরোটা তার সন্তানের মত। সে বেশি আবেগপ্রবণ হয়। কী ভেবে প্রতিটি শব্দ লেখা হয়েছে একমাত্র কবির পক্ষেই সেটা জানা সম্ভব। একজন বাচিক শিল্পী বা আবৃত্তিকার তাঁর প্রতিভা দিয়ে কবিতাটাকে নাটকীয় করে তুলতে পারেন।

‘রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে ছবি করব না’
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

‘তুমি আমি আর কবিতা’— আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির এই অনুষ্ঠান নিয়ে এখন ব্যস্ত শতাব্দী রায়। তার মাঝেই একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন নানা কথা।

Advertisement

কবি নাকি আবৃত্তিকার কার কণ্ঠে কবিতা বেশি প্রাণ পায়?
কবির কণ্ঠে। কারণ পুরোটা তার সন্তানের মত। সে বেশি আবেগপ্রবণ হয়। কী ভেবে প্রতিটি শব্দ লেখা হয়েছে একমাত্র কবির পক্ষেই সেটা জানা সম্ভব। একজন বাচিক শিল্পী বা আবৃত্তিকার তাঁর প্রতিভা দিয়ে কবিতাটাকে নাটকীয় করে তুলতে পারেন। 
কবিতায় কথা বলা শুরু ঠিক কখন থেকে?
সৃজনশীল আবহেই আমার কর্মজগৎ আবর্তিত হয়েছে। অভিনয়টাও এক ধরনের অনুভব আর অনুভতির প্রকাশ। আমার কবিতা লেখা শুরু স্কুল বেলা থেকেই। আমার প্রথম কবিতার বই বেরোয় ১৯৯৫ সালে। তখন আমি হিরোইন হিসেবে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিষ্ঠিত। 
সিনেমা, যাত্রা, লেখালিখি, রাজনীতি... কোনটাকে কার পরে রাখবেন?
যখন সিনেমা করতাম, তখন সিনেমাটাই প্রায়রিটি ছিল। এখন যেহেতু রাজনীতিটাই মন দিয়ে করছি, তাই আগে রাজনীতিকেই রাখব। তবে এটা তো মানতে হবে আমার যা কিছু সব সিনেমার জন্যই। শিল্পী শতাব্দী রায়কে তাই আমি সব সময় আগে রাখব। কিন্তু কবিতার ক্ষেত্রে কখনওই আমার পেশাদার কমিটমেন্ট নেই। ওটা আমার নিজের জগৎ। 
রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে কখনও ছবি তৈরি করতে ইচ্ছে করে না?
না... সেটা করা কঠিন। আমি তো তাহলে এত বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বইও লিখতে পারতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। কারণ, এমন অনেক কিছু লিখতে বা পর্দায় তুলে ধরতে চাইব, সেটা আমায় করতে দেওয়া হবে না। এমন অনেক রাজনৈতিক সমস্যা থাকে সেগুলোকে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। 
আপনারা যাঁরা সিনেমা জগৎ থেকে সংসদে বা বিধানসভায় পৌঁছেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশা ছিল। আশাহত হওয়ার আক্ষেপ কিন্তু স্টুডিওয় কান পাতলেই শোনা যায়...
কেউ কি আমার কাছে কখনও এসেছে যে আমার এটা চাই বলে? আমি কেন আগ বাড়িয়ে বলতে বা করতে যাব? আমি সেখানেই নিজেকে নিয়ে যাই যেখানে আমার প্রয়োজন আছে। ইন্ডাস্ট্রি তো চলছে। সেখানে নেতা, মাথা অনেক আছে। কোনও স্তর থেকেই কেউ আমাকে কিছু বলতে আসেননি। আলোচনা করেননি। 
শিল্পী সত্ত্বা এবং রাজনৈতিক সত্ত্বার সংঘাত কী করে সামলান?
প্রথম প্রথম শিল্পী সত্ত্বার সঙ্গে রাজনৈতিক সত্ত্বা ভীষণভাবে ক্ল্যাশ করত। সিনেমা জগতে একটা আড়াল ছিল। দূরত্ব ছিল। মাঠে ঘাটে লোক টিকিট কেটে আমাকে দেখতে আসছেন। একটা আত্মশ্লাঘা ছিল। রাজনীতিতে এসে দেখলাম একটা তক্তার উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমাকে ঘিরে কয়েক হাজার লোক। আঙুল তুলে এটা চাই, ওটা চাই বলছেন। এই দূরত্বটা মেটানোর জন্য অনেক লড়াই করতে হয়েছে আমাকে। 
শ্যুটিং ফ্লোর মিস করেন?
করি... ভীষণভাবে মিস করি। আড্ডা, অ্যাকশন-কাট শব্দটা, কত আউটডোর, কত মজা, কত মানুষ আজ আর নেই। লাইট টেকনিশিয়ান দুখীদা, ক্যামেরাম্যান শঙ্করদা, গাড়ি চলিয়ে নিয়ে যেত দীপক... ভীষণ মনে পড়ে ওঁদের কথা। আমার বেশিরভাগ সিনেমার ভিলেন সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়...জানি না এখন পরিস্থিতি কীরকম, তখন কিন্তু আমারা পরিবারের মত থাকতাম।

প্রিয়ব্রত দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ