Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আপনার মুখটা মনে রাখছি’ , বড় ব্যাগ দেখলেই যাত্রীকে বার্তা ট্যাক্সি চালকদের

গাছের ছাওয়ায় রাখা হলুদ ট্যাক্সির বনেটের উপর বসে এক মনে খবরের কাগজ পড়ছেন শেখ সেলিম। কী এত মন দিয়ে পড়ছেন?

‘আপনার মুখটা মনে রাখছি’ , বড় ব্যাগ দেখলেই যাত্রীকে বার্তা ট্যাক্সি চালকদের
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাছের ছাওয়ায় রাখা হলুদ ট্যাক্সির বনেটের উপর বসে এক মনে খবরের কাগজ পড়ছেন শেখ সেলিম। কী এত মন দিয়ে পড়ছেন? কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে সেলিম বললেন, এই যে ট্যাক্সিচালকের বক্তব্য। কীভাবে ব্যাগের মালিককে ধরল, সেটা জেনে রাখছি। কোন দিন আমাকে করতে হবে, কে জানে! এরকমই আতঙ্কে ভুগছেন শহরের ট্যাক্সিচালকরা? তাঁদের বক্তব্য, সব ঝামেলা আমাদের। এসব করতে গেলে তো আর অ্যাপ ক্যাব করবে না। ওখানে নাম-ধাম উঠে যাবে। আর সেই বড় চাকা লাগানো ব্যাগের দোকানদাররা বলছেন, কিনে নিয়ে গিয়ে যা খুশি করুক। আমাদের বিক্রি হলেই হল।

Advertisement

কুমোরটুলি থেকে শুরু হয়েছে এই ব্যাগে ভরে দেহ পাচারের কারবার। তারপর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে আবার সেই কাণ্ড। দুই ক্ষেত্রেই ট্যাক্সিতে করে নিয়ে আসা হয়েছিল চাকা লাগানো ব্যাগ। যে ব্যাগের ভিতরেই ছিল কাটা মৃতদেহ। ছাপোষা ট্যাক্সিচালকদের এসব খবর পড়েই চোখ কপালে উঠেছে। সেলিম বলছিলেন, ব্যাগ নিয়ে কেউ ট্যাক্সিতে উঠলে এখন জিজ্ঞেস করে নিই। ব্যাগে কী আছে? সারাক্ষণ লুকিং গ্লাসে দেখে নিই। যতটা সম্ভব মুখগুলো মনে রাখার চেষ্টা করছি। সেলিম আবার খবরের কাগজেই চোখ রাখলেন। সাদা ট্যাক্সির ভিতর বসে ছিলেন চালক বিক্রম দাস। তিনি বলছিলেন, আমিও ব্যাগ নিয়ে কেউ গাড়িতে উঠলে, একবার জিজ্ঞেস করে নিচ্ছি। পরিবার নিয়ে কেউ উঠলে, অতটা সন্দেহ হয় না। একটু সন্দেহ হলেই মনে মনে ভাবি, সামনে পুলিসের কাছে নিয়ে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেব। আর এক ট্যাক্সিচালক পাশ থেকে বলেন, আগে রাস্তায় পুলিস দেখলে মনে হতো কেস দেবে। এখন পুলিস দেখলে ভরসা লাগছে, সন্দেহজনক লাগলেই গিয়ে বলে আসব। 
ট্যাক্সিচালকরা যখন চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন, সেই চাকা লাগানো ব্যাগের দোকানিরা কিন্তু বেশ মন খোলা। শিয়ালদহ চত্বরে একাধিক ব্যাগের দোকান। সেখানে চ্যাকা লাগানো রঙবেরঙের ব্যাগের সমাহার। নানা মাপের, নানা দামের। দরাদরিও চলছে দেদার। এক ক্রেতা দরদার করে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি এখন এই ধরনের ব্যাগ কেনার সময় কিছু যাচাই করছেন? দোকানি অবাক। তার প্রশ্ন, কেন, কী জিজ্ঞেস করব? ক্রেতা বললেন, চারদিকে যেভাবে ব্যাগে ভরে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাই জিজ্ঞেস করলাম। এই কথা শুনে বিক্রেতার স্পষ্ট বক্তব্য, দেখুন, আমরা বিক্রি করতে এসেছি। কোনও অবৈধ জিনিস বিক্রি করছি না। এবার কেনার পর সেই ব্যাগের ভিতরে কে কী রাখবেন, সেটা দেখার দায় আমাদের নয়। দক্ষিণ কলকাতার এক ব্যাগ বিক্রেতা সুবর্ণ রায় বলছিলেন, এরকম ভাবে তো আগে কোনও দিনই ভাবিনি। এখন সত্যিই কেউ এরকম ব্যাগ কিনতে এলে দোকানেই সব আলোচনা করছি। এটা এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। কাউকেই তো দেখে বোঝার উপায় থাকে না। এখন প্রায় সমস্ত দোকানেই সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকে। তাই সকলের ছবিই তো উঠে যায়। কেউ যদি পরে কিছু করেও থাকে, তবে তাকে ধরা যাবে। শুধু তাই নয়, পথচলতি সাধারণ মানুষও এখন ওই ব্যাগ নিয়ে বের হতে খানিক ইতস্ততই বোধ করছেন। শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলছিলেন, ভালো ঝামেলা হয়েছে। এরকম ব্যাগ নিয়ে বেরলে লোকে এমনভাবে দেখছে...! কোম্পানিগুলো ট্রান্সপারেন্ট ব্যাগ বাজারে ছাড়তে পারে।  

সম্পর্কিত সংবাদ