মানসিক চাপেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলাম, স্বীকারোক্তি কিং কোহলির
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেঙ্গালুরু: দু’হাতে ভর্তি ট্যাটু। ট্রিমড দাড়ির সঙ্গে  হাল ফ্যাশনের সানগ্লাস। চনমনে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। বিরাট কোহলির চাবুকের মতো ফিটনেস লজ্জায় ফেলবে শিক্ষানবীশদেরও। কিংবদন্তি ভারতীয় ক্রিকেটার একইসঙ্গে স্টাইল আইকন। ৩৬ পেরিয়েও অফুরান প্রাণশক্তি। ক্লান্তি বোধহয় অভিধানে নেই। কিং কোহলির গ্ল্যামারের পাশে হাজার ওয়াটের আলোও ম্লান। আর এখানেই আসল টুইস্ট। কিং কোহলিকেও গ্রাস করে ক্লান্তি! ঘিরে ধরে অবসাদ। ঝকঝকে রোদচশমার আড়ালে লুকিয়ে থাকে উদ্বেগ। মনের কথা ফাঁস করলেন বিরাট নিজেই। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পডকাস্ট চ্যানেলে তাঁর ইন্টারভিউ কার্যত কিং কোহলির ফিরে দেখা। 

Advertisement

২০০৮ সাল থেকে আইপিএল খেলছেন বিরাট। গার্ডেন সিটির ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক। দলকে ন’বছর নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন সামলেছেন জাতীয় দলের অধিনায়কের হটসিট। কিন্তু  হঠাৎই সব ছেড়ে দেন কোহলি। ২০১৯ সালে আইসিসি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয় কোহলির ভারত। কামব্যাক মোটেও সহজ ছিল না। কোহলি জানিয়েছেন, ‘মনে হচ্ছিল, কোনওরকমে বাড়ি ফিরতে পারলে স্বস্তি মিলবে। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল সারাক্ষণ।’ ২০২১ সালে আরও খারাপ হয় পরিস্থিতি। বোর্ডের মসনদে তখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিন ফরম্যাটেই অধিনায়ক নির্বাচিত হন রোহিত শর্মা।  অন্যদিকে, টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন্স ব্যান্ড খুলে রাখার পাশাপাশি আরসিবির অধিনায়কত্ব থেকেও কোহলি সরিয়ে নেন নিজেকে। সবকিছু নিয়েই এতদিন পর মুখ খুললেন তারকা ব্যাটার। জানিয়েছেন মানসিক ক্লান্তির কথা। বিরাটের মন্তব্য, ‘অদৃশ্য মানসিক চাপ সারাক্ষণ সহ্য করা সত্যিই শক্ত। ক্রিকেটকে উপভোগ করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। ২৪ ঘণ্টা ক্যামেরার ফোকাস সামলানো বড় ক্লান্তিকর। যে করেই হোক, দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বেরতে চাইছিলাম। অনেক ভেবেই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।’ চট করে মনে পড়ে টাইগার উডস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের উদাহরণ। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অজি ক্রিকেটার ম্যাক্সওয়েল সাময়িকভাবে বিরতি নেন ক্রিকেট থেকে। গল্ফ স্টিক তুলে রেখে নিজেকে সরিয়ে নেন টাইগার। দ্বিগুণ খিদে নিয়ে পরবর্তীতে ফিরে আসেন তাঁরা। কোহলির ক্ষেত্রে এতটা বাড়াবাড়ি হয়নি। তবে একঘেয়েমি গ্রাস করেছিল তাঁকেও।  এবার বেঙ্গালুরুকে ট্রফি জেতাতে চান কোহলি। জানিয়েছেন, ‘কঠিন সময়ে অনেকেই দল বদলানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি সেটা চাইনি। আরসিবি ছাড়ার কোনও ভাবনা আমার নেই।’