নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছেন। কখনও শুল্ক, কখনও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। আবার বারেবারেই ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির কৃতিত্বও দাবি করছেন। এভাবে ভারতের উপর চাপ তৈরি করে চলেছেন ট্রাম্প। রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় চলতে থাকলে ভারতের পণ্যরপ্তানির উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সত্যিই দুই দফায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে দিয়েছেন তিনি। বিরোধীরা বারংবার প্রশ্ন করেছেন যে, কেন্দ্র বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি কেন নীরব? তিনিই তো সবথেকে বেশি ট্রাম্পের বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া ছিলেন। বুধবার কেন্দ্র স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্পের চাপানো শুল্ককে অযৌক্তিক, অসঙ্গত, অবাস্তব আখ্যা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কৃষিবিজ্ঞানী এম এস স্বামীনাথনের শতবার্ষিকী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করে মোদি বলেন, ভারতের কৃষি, মৎস্যজীবী এবং প্রাণীসম্পদ কর্মীদের স্বার্থ ভারত সরকারের কাছে সর্বোচ্চ। কৃষকদের স্বার্থহানি হয়, এরকম কোনও কিছুর কাছে ভারত মাথা নত করবে না। এজন্য আমি কোনও আপস করব না। আমি জানি এজন্য আমাকে অনেক মূল্য চোকাতে হবে। কিন্তু পিছু হটব না।
এবার মোদি যে ট্রাম্প কিংবা আমেরিকার নাম উচ্চারণ করলেন, এমন নয়। পরোক্ষেই বললেন। তবু মনে করা হচ্ছে, সরকারের মনোভাব তিনি স্পষ্ট করে দিলেন। ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক বোমার পর মোদির এই উক্তি থেকেই স্পষ্ট, ভারত এবার আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কয়েকমাস ধরে ট্রাম্প লাগাতার হুমকি দিলেও ভারত সরকার নিজেকে সংযত রেখেছে একটাই কারণে। কারণ, ভারত ও মার্কিন সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনার অগ্রগতিতে ভারত আশা করছিল, খুব বেশি হলে ট্রাম্পের শুল্ক ১৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। ইওরোপীয় ইউনিয়নের সমতুল। কিন্তু সেই বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্প দুই দফায় ভারতের উপর রীতিমতো শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছেন। যে সব রাষ্ট্রের উপর আমেরিকা শুল্কের বোঝা চাপিয়েছে, তাদের মধ্যে সর্বাধিক ব্রাজিল ও ভারতের উপর। উভয় দেশের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বোঝা। এদিকে মোদির উপর বিরোধীরা চাপ দিচ্ছেই, এবার শিল্পমহলও কঠোর বার্তা দিচ্ছে। কোনওরকম আপস না করে এবার আমেরিকার উপর সমতুল ট্যাক্স চাপানো হোক। শিল্পবাণিজ্যমহল এটাই চাইছে। চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে বলেছে, অবিলম্বে ভারতও সমহারে শুল্ক চাপিয়ে দিক। অর্থাৎ ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে, এবার ভারতও ঠিক ৫০ শতাংশই শুল্ক আরোপ করুক। ইঁটের বদলে পাটকেল না দিলে আমেরিকা এভাবেই যথেচ্ছাচার করে চলবে বলেই মনে করছে শিল্পমহল।