নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মঙ্গলবার গভীর রাত। খালি গায়ে শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরে বরানগর থানায় হাজির এক প্রৌঢ়। কর্তব্যরত কনস্টেবলকে বললেন,‘নেশা করার সময় বাবা খুব বিরক্ত করছিল। বারবার বলা সত্ত্বেও শুনছিল না। তাই বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে এসেছি। বডি ঘরেই পড়ে আছে।’ শুনে সকলেই চমকে ওঠেন। ওই প্রৌঢ়কে থানায় বসিয়ে বাড়ির ঠিকানায় দৌড়ে যান পুলিস কর্মীরা। বরানগর পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিশির কুমার দাঁ রোডের বাড়ির ঘর থেকে পুলিস উদ্ধার করে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম ললিত অধিকারী (৭৪)। তাঁর গুণধর ছেলে গৌতম অধিকারীকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর ঘর থেকে নেশার নানান সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। ধৃতকে বুধবার বারাকপুর আদালত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশির কুমার দাঁ রোডের বাসিন্দা ললিত অধিকারী। তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি অধিকারী বছর তিনেক আগে মারা গিয়েছেন। তিনতলা বাড়ির নীচে ললিতবাবুর লজেন্স কারখানা ছিল। বয়স হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন তা ভাড়ায় দিয়েছিলেন। শিশিরবাবুর বিবাহিত মেয়ে রেনু ঘোষ দস্তিদার ওই ওয়ার্ডের বাঘাযতীন রোডের বাসিন্দা। ছেলে গৌতম অধিকারী প্রথমে বাবার লজেন্স কারখানা দেখভাল করতেন। কিন্তু কাজে মন ছিল না। কম বয়স থেকে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের তরফে বহু চেষ্টা করেও, তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকে গৌতম ডানলপ-বারাকপুর রুটে অটো চালাতে শুরু করেছিলেন। বছর সাতেক আগে তাঁর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল হাওড়ার বালিতে। সেখানেই তিনি বেশির ভাগ সময় থাকতন। তবে গত একমাস ধরে তিনি বরানগরে নিজের বাড়িতে থাকছিলেন। তাঁর স্ত্রীও মাঝেমধ্যে এসে এখানে থাকতেন। স্নানযাত্রার দিন গৌতম ও তাঁর স্ত্রী বাড়িতে জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রার মূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনরাও এসেছিলেন।
কিন্তু মঙ্গলবার রাতে গৌতম বাড়িতে একাই ছিলেন। পুলিস রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেছে, গৌতমের ঘরে এসি চলছিল। খাটের উপর গাঁজা, ছিলিম সহ নানান নেশার সামগ্রী পড়েছিল। পাশের ঘরে বিছানার উপর ললিতবাবুর মৃতদেহ। রেনুদেবী বলেন, বাড়িতে রান্নার লোক ছিল। পুজো করতে ব্রাহ্মণ আসতেন। আমি প্রতিদিন বাবার খোঁজ নিয়ে আসতাম। ভাইয়ের সঙ্গে ঝামেলা হলে বাবা জানাতেন। সম্প্রতি বড় কোনও সমস্যা ছিল না। তবে ভাই রগচটা ছিল। ওর স্ত্রীর সঙ্গেও ঝামেলা বাঁধত। সমস্ত ধরণের নেশা করত। কী কারণে ও বাবাকে খুন করল বুঝতে পারছি না। তবে ছোট থেকেই ওর অসৎ সঙ্গ, আজ সব কিছু শেষ করে দিল। -নিজস্ব চিত্র