Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম’, দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে হস্টেলের পড়ুয়া-কর্মীদের

ক্লাস শেষ করে হস্টেলের ক্যান্টিনে খেতে বসেছিলেন পড়ুয়ারা। হঠাৎই কান ফাটানো বিকট শব্দ। কিছু বোঝার আগেই আছড়ে পড়ল বিমান।

‘প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম’, দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে হস্টেলের পড়ুয়া-কর্মীদের
  • ১৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমেদাবাদ: ক্লাস শেষ করে হস্টেলের ক্যান্টিনে খেতে বসেছিলেন পড়ুয়ারা। হঠাৎই কান ফাটানো বিকট শব্দ। কিছু বোঝার আগেই আছড়ে পড়ল বিমান। ধুলোয় ঢেকে গেল চারদিক। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ। ঝলসে গেল চারপাশ। ভয়াবহ সেই ঘটনার কথা মনে করে এখনও শিউরে উঠছেন ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের অনেকেই। সাক্ষাৎ মৃত্যুকে সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে এখনও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্ক স্পষ্ট।

Advertisement

অরুণ প্রসাদ নামে এক চিকিৎসক পড়ুয়া বলেছেন, ‘ছ’তলায় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। বিস্ফোরণের পর দ্রুত নীচে নামতে শুরু করি। দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত নামতে পেরেছিলাম। তারপর লাফ দিই। ১৫-২০ মিনিট পর আমাকে উদ্ধার করা হয়।’ দ্রিজেশ মোর নামে বিজে মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়া বলেন, ‘দুপুরের খাবার শেষ করে আমি হাত ধুতে গিয়েছিলাম। হঠাৎই বিকট শব্দ। প্রথমে ভাবলাম ভূমিকম্প হচ্ছে বোধহয়। তারপর মনে হল পাকিস্তান হয়তো আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। জানালা ভেঙে গোটা ঘর ধুলোয় ঢেকে যায়। কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না, বাইরে বের হওয়া নিরাপদ কি না।’ ঘটনাস্থলে থাকা আরেক হস্টেল কর্মী জানিয়েছেন, ‘আমরা তখন রুটি বানাচ্ছিলাম। কী হয়েছে, কিছু বুঝতে পারছিলাম না। শুধু ধোঁয়া আর চিৎকারের শব্দ।’ হস্টেলের অপর এক কর্মী জানিয়েছেন, ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল চারিদিক। অসহ্য তাপ। সবাই এদিক ওদিক উদভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করছিল। দুর্ঘটনার পর নিজের জিনিসপত্র কিছু অবশিষ্ট রয়েছে কি না, তা দেখতে হস্টেলে গিয়েছিলেন অনেকে। মেডিক্যাল কলেজের এক সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার বলেন, ‘হস্টেলের ঘরে গিয়েছিলাম। তবে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের জেরে সেখানে সবকিছু ছাই হয়ে গিয়েছে। যেটুকু যা অবশিষ্ট ছিল, তাই নিয়ে এসেছি আমরা।’ অন্যদিকে, ভয়াবহ এই বিমান দুঘর্টনার পর এখনও খোঁজ মেলেনি হস্টেলের এক কর্মীর পরিবারের। রবি ঠাকুর নামের ওই কর্মী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি হস্টেলে ছিলেন না। তাঁর মা, স্ত্রী ও ২ বছরের কন্যাসন্তান ছিল। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কারও খোঁজ মেলেনি। পরিবারের খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন রবি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর এখনও নিখোঁজ এক চিকিৎসক সহ আরও কয়েকজন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ