Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গার্ড রুমের ভিতর নির্যাতন হয়েছে, জানতামই না! দাবি নিরাপত্তারক্ষীর

গণধর্ষণের সময় আইন কলেজের গেটের চাবি ছিল মনোজিতের দুই সহযোগী জায়িব ও প্রমিতের কাছে।  গণধর্ষণের ঘটনার দিন গার্ড রুমে প্রথমে আসে মনোজিৎ। কিছুক্ষণের মধ্যে গার্ডরুমে ঢুকেছিলেন নির্যাতিতা।

গার্ড রুমের ভিতর নির্যাতন হয়েছে, জানতামই না! দাবি নিরাপত্তারক্ষীর
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ১২:০৭

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গণধর্ষণের সময় আইন কলেজের গেটের চাবি ছিল মনোজিতের দুই সহযোগী জায়িব ও প্রমিতের কাছে।  গণধর্ষণের ঘটনার দিন গার্ড রুমে প্রথমে আসে মনোজিৎ। কিছুক্ষণের মধ্যে গার্ডরুমে ঢুকেছিলেন নির্যাতিতা। তাঁকে বলা হয়েছিল ইউনিয়নের পোস্ট পাওয়ার জন্য কিছু কাগজপত্রে সই করতে হবে। তবে নির্যাতিতা কখন সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তা তিনি দেখেননি, দাবি নিরাপত্তারক্ষীর আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের। তিনি বলেন, ‘গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীর কোনও যোগ নেই। তার কাজ হল, কলেজের নিরাপত্তা দেওয়া। যাতে বাইরের লোক কলেজের ভিতরে ঢুকতে না পারে ও নিরাপত্তা ঠিক থাকে। কলেজের অফিসে তিনি প্রবেশ করতে পারেন না। আমার মক্কেলকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে।’ ওইদিন দীর্ঘসময় পরে গার্ড রুমের চাবি তিনি ফেরত পেয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। ঘটনা যাচাই করতে তিন অভিযুক্তের সঙ্গে ওই নিরাপত্তারক্ষীকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। পুলিস হেফাজত শেষে শুক্রবার পিনাকীকে ফের আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে আট জুলাই পর্যন্ত পুলিসি হেফাজতে পাঠান। 

Advertisement

এই আবর্তেই আগামী সোমবার থেকে ল’কলেজ চালু করার নির্দেশিকা জারি করেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। ২৫ জুনের গণধর্ষণ কাণ্ডের পর থেকে বন্ধ ছিল কলেজ। তবে কলেজ খুললেও, ইউনিয়ন রুম বন্ধই থাকবে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ল‘কলেজের পঠনপাঠনের সময়সীমা সকাল ৮টা থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত। তারপরে কোনও ছাত্র-ছাত্রী সেখানে থাকতে পারবেন না। ল’কলেজের ঘটনার জেরে দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে পরিচয়পত্র ছাড়া ঢোকা যাবে না। কলেজে ঢুকতে হলে, প্রাক্তনীদের নিতে হবে আগাম অনুমতি। কসবা কাণ্ডের জেরে রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের সমস্ত অংশে সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়া শুরু হলেও, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ইউনিয়ন রুম শুক্রবারও ছিল খোলা।  
অপরদিকে, কীভাবে কলেজের গার্ড রুমে মনোজিৎ ও তার সহযোগীরা অবাধে ঢুকল, প্রথম থেকেই তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। কলেজের নিরাপত্তারক্ষী জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, গার্ড রুমেই মদের বোতল রাখত মনোজিৎ। তার দাপটের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি। গার্ড রুমে নিজের অনুগামীদের নিয়ে নিয়মিত মদের আসর বসাত ওই টিএমসিপি নেতা। নিরাপত্তারক্ষীর মুঠো গরম করে অনেক রাত পর্যন্ত চলত পার্টি। কলেজের গেট বন্ধ করেই মদ্যপান চলত। আসর শেষে তাঁদের চাবি খুলে দিত নিরাপত্তারক্ষী। পিনাকী জেরায় অফিসারদের জানিয়েছে, ২৫ তারিখ রাতে কলেজে অনেকক্ষণ ছিলেন ওই নির্যাতিতা। সাড়ে সাতটা নাগাদ মনোজিত জানতে চায়, গার্ড রুম খোলা আছে কি না। ওই নিরাপত্তারক্ষী ঘর খোলা আছে জানালে, সেখানে মনোজিৎ প্রথমে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রী আসেন। নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, এরপর কলেজের গেটে তালা দিয়ে বাইরে চা খেতে যান তিনি।  ফিরে এলে জায়িব ও প্রমিত তার কাছ থেকে চাবি কেড়ে নেয়। গার্ড রুমের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন নিরাপত্তারক্ষী। ঘণ্টা তিনেক পর চাবি ফেরত দেয় প্রমিতরা। এরপর মনোজিৎ সহ তিনজন একসঙ্গে বেরিয়ে যায়।  তবে গার্ড রুমে যে এতবড় ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁর জানা ছিল না বলে দাবি নিরাপত্তারক্ষীর।

সম্পর্কিত সংবাদ