


ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদ: ‘আমার অন্তত চার-পাঁচবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত।’ এমনই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে একাধিক দেশের সংঘাত থামাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছেন। এগুলির মধ্যে ভারত-পাকিস্তান ও কঙ্গো-রোয়ান্ডা সংঘাতও রয়েছে। ট্রাম্পের কটাক্ষ, ‘ওরা আমাকে নোবেল পুরস্কার দেবে না, কারণ ওরা শুধু উদারপন্থীদেরই পুরস্কার দেয়।’ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরই তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য সওয়াল করেছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। পরে সরকারিভাবেও পাকিস্তান জানাল, ২০২৬ সালে নোবেলের জন্য তারা ট্রাম্পের নাম মনোনীত করছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত ঠেকাতে ট্রাম্প প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন দাবি করে ইসলামাবাদ তাঁর ভূয়সী প্রশংসাও করে।
অপারেশন সিন্দুর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাত তাঁর জন্যই থেমেছে। একাধিকবার এই দাবি করেছেন ট্রাম্প। ভারত সেই দাবি খারিজ করলেও থামেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নোবেল নিয়ে পাকিস্তানের সওয়ালের পরই ট্রাম্প বলেন, ‘রোয়ান্ডার জন্য আমাকে অবশ্যই নোবেল দেওয়া উচিত। কিংবা কঙ্গোর জন্য। সার্বিয়া, কসভোয় শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়েও অনেক কিছু বলা যেতে পারে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কাজ ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত থামানো। তাই আমার চার থেকে পাঁচবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত।’
ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বাসনা নতুন নয়। ২০১৯ সালেও নিজেকে এই পুরস্কারের দাবিদার বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ইজরায়েলের সঙ্গে একাধিক আরব রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নেওয়ায় ট্রাম্পের নাম নোবেলের জন্য মনোনয়ন করেছিলেন তাঁর সমর্থকরা। যদিও তাঁর ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি।
এদিকে, ট্রাম্পের নাম সুপারিশের জন্য ঘরে-বাইরে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান সরকার। সমালোচকদের দাবি, গাজায় ‘গণহত্যা’কে সমর্থন করেছেন ট্রাম্প। ইরানের উপর ইজরায়েল হামলাতেও সমর্থন জুগিয়েছেন তিনি। এমন এক ব্যক্তিকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করে গর্হিত অপরাধ করেছে পাক সরকার। ট্রাম্পকে খুশি করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে শাহবাজ সরকার।