Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেয়ের সাক্ষীর ভিত্তিতে মধ্যমগ্রামে স্ত্রীকে খুনে দোষী সাব্যস্ত হল স্বামী

স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত আদালত। মায়ের খুনের ঘটনা খুব সামনে থেকে দেখেছিল নয় বছরের মেয়ে।

মেয়ের সাক্ষীর ভিত্তিতে মধ্যমগ্রামে স্ত্রীকে খুনে দোষী সাব্যস্ত হল স্বামী
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীকে দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত আদালত। মায়ের খুনের ঘটনা খুব সামনে থেকে দেখেছিল নয় বছরের মেয়ে। সেই মেয়ের সাক্ষীতেই এদিন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দোষীর নাম রিপন দাস (৪৫)। বুধবার এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন বিচারক।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামে বাড়ি রিপন দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় পিঙ্কি দাসের। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে অশান্তি ছিল নিত্যদিনের। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় দাম্পত্য অশান্তি চলছিল। স্বামীকে গ্যাস সিলিন্ডার আনার কথা বললেও রিপন তাতে গুরুত্ব দেননি। অভিযোগ, অশান্তি চলাকালীন ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল এনিয়ে বিবাদ চরমে ওঠে। পিঙ্কি স্বামীকে বলেন, গ্যাসের সিলিন্ডার না থাকায় রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে। সিলিন্ডার যদি না এনে দাও, তাহলে আমার আর বেঁচে থেকে লাভ কী? খাব কী? অভিযোগ, স্ত্রীর মুখে একথা শোনার পরেই রান্নাঘরে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন স্বামী রিপন। অগ্নিদগ্ধ স্ত্রীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে তাঁকে নিয়ে আসেন বারাসত হাসপাতালে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি  হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করানো হয় কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে। পরের দিন, ১২ এপ্রিল চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, মায়ের গায়ে বাবা আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন, সেটা খুব কাছ থেকেই দেখেছিল দম্পতির ৯ বছরের মেয়ে। পরবর্তীতে মৃতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামী রিপন দাসকে গ্রেফতার করে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। আট বছর ধরে মামলা চলে বারাসত আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তাতে ছিল রিপনের মেয়েও। মাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য সে বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছিল। মেয়েই ছিল মায়ের খুনের প্রধান সাক্ষী। সবদিক খতিয়ে দেখে মঙ্গলবার স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে খুনের অভিযোগে স্বামী রিপন দাসকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। মামলার সরকারি আইনজীবী শ্যামলকান্তি দত্ত বলেন, পারিবারিক অশান্তির জন্যই স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে খুন করেন স্বামী। মামলার প্রধান সাক্ষী কিশোরী মেয়ে। বুধবার চূড়ান্ত রায় শোনাবেন বিচারক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ